আলীকদম বাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ড, সেনাবাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপে দ্রুত নিয়ন্ত্রন
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলায় সাপ্তাহিক গরু বাজার চলাকালে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সেনা জোন, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফলে প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আলীকদম সেনা জোন সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে ১নং সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে, আলীকদম গরু বাজার সংলগ্ন জনৈক রফিক চৌধুরীর সেমিপাকা টিনশেড মার্কেটের পেছনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এ সময় সাপ্তাহিক গরু কেনাবেচার বাজার চলমান থাকায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং আগুন দ্রুত কয়েকটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আলীকদম সেনা জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন ফাহিম মুনতাসিরের নেতৃত্বে ৩০ জন সেনাসদস্য নিয়ে গঠিত একটি অগ্নি নির্বাপন দল, আলীকদম ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় সেনা জোনের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসকে প্রয়োজনীয় জনবল, লজিস্টিক ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

আলীকদম সেনা জোন ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মার্কেটের পেছনে একটি বসতবাড়ির সৌর প্যানেলের ব্যাটারি ছোট আকারে বিস্ফোরিত হওয়ার ফলে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনে কয়েকটি দোকান ও একটি বসতবাড়ির বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। এতে চিউও মার্মার ২০০ বস্তা সিমেন্ট, আনোয়ার জিহাদ চৌধুরীর টিভি, সোফাসেট ও আলমিরা, রুপন পালের খালি দোকানের কিছু মালামাল এবং রুপন কান্তি জুয়েলের বসতবাড়ির মালামাল ও স্বর্ণালংকার পুড়ে আনুমানিক সাত লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আলীকদম সেনা জোন, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। সময়োপযোগী নেতৃত্ব, পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিক সহায়তার মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে আলীকদম সেনা জোন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
এদিকে আলীকদম জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ভবিষ্যতে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার, বৈদ্যুতিক সংযোগের নিয়মিত তদারকি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রসঙ্গত, আলীকদম সেনা জোন স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, শান্তি ও সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।