প্রত্যন্ত পাহাড়ে সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোনের মানবিকতা: শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে শীতের তীব্রতা যখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে, ঠিক তখনই মানবিক দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়নের অধীন লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগে বার্মাছড়ি মুখ ও উত্তর শুকনাছড়ি এলাকায় শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়ি জনগণের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম প্রশংসনীয়ভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
শীত মৌসুমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখা এবং শীতজনিত কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যে লক্ষীছড়ি জোন এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মোট ৪৫ জন নারী ও পুরুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। সীমিত সুযোগ-সুবিধার এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর এ ধরনের উপস্থিতি স্থানীয়দের জন্য স্বস্তি ও আশ্বাসের বার্তা হিসেবে কাজ করেছে।

শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে সেনাসদস্যরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। কেবল শীতবস্ত্র বিতরণেই সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়েও তারা আগ্রহের সঙ্গে কথা বলেন।
শীতবস্ত্র পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দুর্গম এলাকায় এসে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

স্থানীয়দের মতে, শীত মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় কম্বল ও উষ্ণ পোশাকের অভাব দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ শীতজনিত কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা, নিরাপত্তাবোধ ও সহমর্মিতার সম্পর্ক আরও গভীর করেছে। অনেকেই এটিকে শুধু সহায়তা নয়, বরং রাষ্ট্রের উপস্থিতির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একদিকে যেমন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে তেমনি উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। লক্ষীছড়ি জোনের এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে জনবান্ধব ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।