খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিএনপিতে যোগদানের আড়ালে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিএনপিতে যোগদানের আড়ালে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিএনপিতে যোগদানের আড়ালে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় বিএনপিতে যোগদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের অভিযোগ, যোগদানের নামে আওয়ামী লীগের সক্রিয় ও পদধারী নেতাকর্মীদের দলে পুনর্বাসন করা হচ্ছে।

গত ২ ডিসেম্বর পানছড়ি উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত, এক যোগদান অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি- ২৯৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা দাবি করেন, এসময় বিভিন্ন দল থেকে শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন।

তবে স্থানীয় সূত্র ও বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের দাবি, যোগদানকারীদের অন্তত ৭০ জন আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা, সাবেক ক্যাডার ও দলীয় পদধারী ছিলেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও মামলা-হামলার শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগ আমলে দমন-পীড়নে নেতৃত্ব দিয়েছে, আজ তারাই বিএনপির পরিচয়ে সামনে আসছে, এটি আমাদের জন্য অপমানজনক।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব অন্তর্ভুক্তির পেছনে দলের কিছু প্রভাবশালী নেতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন, মো. শাহজাহান কবীর সাজু (পানছড়ি উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি), চান মিয়া (পানছড়ি সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ), আবদুল মোমিন (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা), মো. ওয়াজ উদ্দিন (উল্টাছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা) ও শুক্কুর আলী (উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য)। এছাড়া লোগাং ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদ, কোরবান আলী ও যুবলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম মালুর নামও আলোচনায় এসেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, গত ১৭ বছরে যারা রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, তারা আজ কোণঠাসা; আর ‘হাইব্রিড’ নেতাদের প্রভাব বাড়ছে। এতে দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়ছে।

এদিকে পানছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকে তারা আশ্রয় দিয়েছে—যা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের পর পানছড়ির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ যদি বিভিন্ন দলের ছত্রচ্ছায়ায় পুনর্গঠনের সুযোগ পায়, তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সারাদেশে যখন ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযান চলছে, তখন পানছড়িতে তার কার্যকর প্রতিফলন কেন দেখা যাচ্ছে না—এ নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

-আমার দেশ।

You may have missed