আসামের পশ্চিম কার্বি আংলংয়ে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি থমথমে, কঠোর নিরাপত্তা বহাল
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে কার্বি ও বিহারি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের পর আসামের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার বিভিন্ন এলাকায় আপাতত থমথমে শান্তি ফিরে এসেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নতুন কোনো সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় ভিলেজ গ্রেজিং রিজার্ভ (ভিজিআর) ও প্রফেশনাল গ্রেজিং রিজার্ভ (পিজিআর) জমি দখলের অভিযোগ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, হিন্দিভাষী কিছু বসতি স্থাপনকারী এসব সংরক্ষিত জমিতে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ), সিআরপিএফ ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংঘর্ষে নিহত দুই ব্যক্তির শেষকৃত্য বুধবার রাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবক সুরেশ দে, যিনি নিজের বাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রাণ হারান। অপরজন কার্বি যুবক আথিক টিমুং, যিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন। বহুজাতিক ও বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর বসবাসকারী খেরোনি এলাকা ছিল সংঘর্ষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের একটি।
প্রশাসন জানিয়েছে, এখনো নিষেধাজ্ঞা আদেশ কার্যকর রয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। সহিংসতায় অন্তত ৭০ জন আহত হন, যার মধ্যে ৬০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য বলে জানা গেছে।
ঘটনার পটভূমিতে জানা যায়, কার্বি আংলং ও পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় ভিজিআর ও পিজিআর জমি থেকে কথিত অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে গত ১৫ দিন ধরে কার্বি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ অনশন কর্মসূচি পালন করছিল।
গত সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে তিনজন আন্দোলনকারীকে সরিয়ে নেওয়ার পর—যা পরে চিকিৎসাজনিত কারণ বলে ব্যাখ্যা করা হয়—পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং মঙ্গলবার ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নেয়।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, গৌহাটি হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর ৬০ থেকে ৮০ সদস্যের টহল দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ পরিচালনা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভূমি মালিকানা ও সংরক্ষিত জমি দখল নিয়ে কার্বি আংলং অঞ্চলে অতীতেও উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।