অর্থাভাবে সময়মতো ভর্তি না করতে পারায় মেয়ের সামনেই বাবাকে হেনস্তার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

অর্থাভাবে সময়মতো ভর্তি না করতে পারায় মেয়ের সামনেই বাবাকে হেনস্তার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

অর্থাভাবে সময়মতো ভর্তি না করতে পারায় মেয়ের সামনেই বাবাকে হেনস্তার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলার রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তিকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক কর্তৃক মেয়ের সামনেই অভিভাবক মোঃ আজগরকে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে সুবিচার চেয়ে অভিভাবক মোঃ আজগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বাদী মোঃ আজগর তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তার মেয়ে আনিকা আক্তার ইবা এয়াতলংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। তবে লটারীতে নাম আসার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জোগাড় করতে না পারায় তিনি তার মেয়েকে ভর্তি করতে পারেননি।

নির্ধারিত সময়ের একদিন পর গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুর ১২টার সময় মোঃ আজগর তার মেয়েকে নিয়ে রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আতাউল্লা আতার নিকট গিয়ে বিশেষ বিবেচনায় তার মেয়েকে ভর্তির জন্য অনুরোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সহকারী শিক্ষক মোঃ নাঈমুল ইসলাম, কেন তিনি নির্ধারিত সময়ে ভর্তি করাননি এবং কেন দেরিতে এসে ভর্তি চাইছেন এমন প্রশ্ন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে, সহকারী শিক্ষক মোঃ নাঈমুল ইসলাম তার মেয়ে আনিকা আক্তার ইবার সামনে তাকে ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন।

বাদী মোঃ আজগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করে এই ঘটনার সু-বিচার কামনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভর্তির নিয়ম ও প্রশাসনিক আচরণ সংক্রান্ত সচেতনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। অভিভাবকরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন হেনস্থা শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীর মানসিক শান্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিংবা অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষকের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়ার সরকারি মোবাইল নম্বরে কল করেও সংযোগ পাওয়া যায় নি।

উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাণী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে গিয়ে শিক্ষক কর্তৃক অভিভাবক লাঞ্ছিতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। আগামী ৩ কার্য দিবসে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেটিজেনরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, বিষয়টি এখন স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বা তদন্তের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু সমাধান করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।