নির্বাচন উপলক্ষে ইয়াঙ্গুনের দীর্ঘ সময়ের কারফিউ তুলে নিচ্ছে জান্তা

নির্বাচন উপলক্ষে ইয়াঙ্গুনের দীর্ঘ সময়ের কারফিউ তুলে নিচ্ছে জান্তা

নির্বাচন উপলক্ষে ইয়াঙ্গুনের দীর্ঘ সময়ের কারফিউ তুলে নিচ্ছে জান্তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মায়ানমারে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর ইয়াঙ্গুনে আরোপিত কারফিউ তুলে নিচ্ছে বলে দেশটির জান্তা সরকার শুক্রবার জানিয়েছে। এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তারা দেশজুড়ে শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনের আগে এটিকে ‘স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার’ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে।

সামরিক বাহিনী ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করলে দেশজুড়ে গণতন্ত্রপন্থী ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।

প্রদর্শনকারীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালানোর সঙ্গে সঙ্গে, প্রায় ৭০ লাখ মানুষের শহর ইয়াঙ্গুনে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।

এর পর থেকে ধীরে ধীরে কারফিউয়ের সময়সীমা ছোট করা হয়। জান্তা জানিয়েছে, বাকি থাকা রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কারফিউ শনিবার থেকে তুলে নেওয়া হবে।

জান্তা মুখপাত্র জাও মিন তুনের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইয়াঙ্গুন অঞ্চলের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এখন উন্নতি করছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মানুষের চলাচলের সুবিধা, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সামরিক বাহিনী বিক্ষোভ দমন করলেও, বহু কর্মী শহর ছেড়ে দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে গেরিলা হিসেবে লড়াই করতে চলে যান।

এ পরিস্থিতি মায়ানমারকে এমন এক গৃহযুদ্ধে ঠেলে দিয়েছে যেখানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, বর্তমানে ৩৬ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত এবং জাতিসংঘের হিসেবে দেশের অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যে নিপতিত।

সেনাবাহিনী অভিযোগ তোলে, অং সান সু চির সরকার ব্যাপক ভোট কারচুপির মাধ্যমে সামরিকপন্থী শিবিরকে হারিয়েছে—এই অজুহাতে তারা ক্ষমতা নেয়।

তবে জান্তা নতুন নির্বাচন আয়োজন করেছে—যা রবিবার ধাপে ধাপে শুরু হয়ে এক মাস চলবে।

তারা দাবি করছে, এর মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।

সু চি এখনো কারাবন্দি, তার অত্যন্ত জনপ্রিয় দল ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আর নির্বাচনকে গণতন্ত্রপন্থী নজরদারি সংস্থাগুলো সামরিক শাসন ‘পুনর্ব্র্যান্ডিং’-এর প্রয়াস বলে ব্যাপকভাবে সমালোচনা করছে।

যদিও ইয়াঙ্গুনে কারফিউ ছিল মাত্র দুই ঘণ্টার, তবু কোভিড-১৯ মহামারি ও অভ্যুত্থানের পর থেকে শহরের নাইটলাইফ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্যাক্সি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক রেস্তোরাঁ ও বার সপ্তাহান্তেও আগেভাগে বন্ধ হয়ে যায়।

প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জান্তা বাধ্যতামূলক নিয়োগের আদেশও জারি করেছে, যাতে তরুণদের সেনাবাহিনীতে টেনে নেওয়া যায়— ফলে তারা রাতের বেলায় ধরা পড়ার ভয়ে আরো সতর্ক হয়ে উঠেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed