রৌনিন পাড়ায় উন্নয়নের ছোঁয়া: সেনাবাহিনীর উদ্যোগে স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টার সংস্কার শেষে উদ্বোধন
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবান পার্বত্য জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম রৌনিন পাড়ায় শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের রুমা জোনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারের সংস্কার এবং নতুন টয়লেট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন শেষে উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ ডব্লিউ এম হাসিবুল হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর হাসিবুল হাসান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকবে।
শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয়কে পার্বত্য অঞ্চলের সকল স্তরের মানুষের মূলমন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল জাতিগোষ্ঠীকে পারস্পরিক সহাবস্থানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হবে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি থেকে দূরে থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো সমস্যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। নির্দ্বিধায় নিজেদের সমস্যা সেনাবাহিনীর কাছে উপস্থাপন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠলে সমাজ থেকে সহিংসতা ও সন্ত্রাস দূর করা সম্ভব। শিক্ষিত সমাজ কখনোই সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয়দের মতে, নবসংস্কারকৃত স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টার এবং নতুন টয়লেট ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা ও বিভিন্ন সচেতনমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে করে দুর্গম এই এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, দুর্গম ও প্রত্যন্ত পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।