নানিয়ারচরের ঘিলাছড়িতে সেনা ক্যাম্পের চেকপোস্টে বিদেশি অস্ত্রসহ একজন আটক
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্টে তল্লাশিকালে বিদেশি অস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আটক ব্যক্তির নাম উত্তম কুমার। সোমবার সকালে তাকে একটি চাইনিজ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, ১৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধীনস্থ ঘিলাছড়ি সেনা ক্যাম্প এলাকার চেকপোস্টে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় এই অভিযান পরিচালিত হয়। এর আগে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এলাকা থেকে রাঙামাটির মানিকছড়ির দিকে একজন অস্ত্র বহনকারী ব্যক্তি চলাচল করতে পারে। প্রাপ্ত এই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রুটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ঘিলাছড়ি ক্যাম্পের চেকপোস্টে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়।
নিরাপত্তাবাহিনী সূত্র আরও জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চেকপোস্টে দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা ওই রুটে চলাচলকারী সকল যানবাহন ও ব্যক্তিকে নিবিড়ভাবে তল্লাশি করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে ওই ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় বিরূপ আচরণ করেন এবং কিছু লুকানোর চেষ্টা করেন বলে সেনা সদস্যদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে দেহ তল্লাশি ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড অ্যামুনিশন, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪১৫ টাকা উদ্ধার করা হয়।
সেনাবাহিনী জানায়, আটক ব্যক্তি এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য নানিয়ারচর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের চলাচল ও সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধে সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। সীমান্তবর্তী ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের চেকপোস্ট ও অভিযান স্থানীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেনাবাহিনীর নিয়মিত তল্লাশি ও তৎপরতার কারণে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর এ ধরনের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সেনাবাহিনী সূত্রে আরও জানানো হয়, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।