মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আটক

মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আটক

মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আটক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় মোংলা বন্দরে পানামার পতাকাবাহী ‘এম ভি এইচটিপি আম্বার’ নামে একটি বিদেশি জাহাজকে আটক করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং’-এর দায়ের করা ক্ষতিপুরণ মামলায় উচ্চ আদালত এ আদেশ দেন দেন। তবে জাহাজ থেকে নিয়মিত পণ্য খালাস হচ্ছে বলে জানায় বন্দরের হারবার বিভাগ। গত ২৭ ডিসেম্বর ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন সার নিয়ে মোংলা বন্দরে জাহাজটি নোঙর করে।

জাহাজটির বাংলাদেশের শিপিং এজেন্ট কসমস শিপিং লাইন্স লিমিটেডের মহা-ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ভারতের পারাদ্বীপ বন্দর থেকে ‘এমভি এইচটিপি আম্বার’ জাহাজে ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার বোঝাই করে ২৭ ডিসেম্বর মোংলা বন্দরে আসে। এই জাহাজে সার আমদানি করে যশোরের নওয়াপাড়ার ‘খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং’। কিন্তু ওই জাহাজ থেকে সময় মতো তারা পণ্য (সার) খালাস করতে না পারায় জাহাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অ্যাডমিরালটি স্যুট (সামুদ্রিক আইন) ১/২০২৬ আইনে গত ৮ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে মামলা করেন।

সেই মামলায় গত ৯ জানুয়ারি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জাহাজটি আটক রাখার নির্দেশনা আসে। বর্তমানে বন্দরের বেসক্রিক-৪ নম্বর বয়ায় নোঙর করা জাহাজটি আটক আছে ।

সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং’ এর পরিচালক সোহাগ আহমেদ খাঁন বলেন, গত ২৭ ডিসেম্বর জাহাজটি মোংলা বন্দরে আসার পার তা থেকে সার খালাস শুরু হয়। তবে প্রথম দিনে এক হাজার মেট্রিকটন সার খালাস হওয়ার পরেরদিন থেকে টানা ১২ দিন সার খালাস বন্ধ করে দেয় জাহাজ কর্তৃপক্ষ। এতে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, জাহাজ ভাড়াকারি প্রতিষ্ঠান (চার্টার্ড) মুরালি ট্রেডিংয়ের সঙ্গে এইচ টিপি আম্বার জাহাজ কর্তৃপক্ষের ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হয়। সেই জটিলতার ভোগান্তি কেন আমরা নেব? এদিকে সেই জটিলতার জেরেই জাহাজ কর্তৃপক্ষ তাদের (সার আমদানিকারক) পণ্য খালাস বন্ধ করে দেয়।

এতে বাজারে সময় মতো সার সরবরাহসহ লাইটার ভাড়া এবং সার খালাসের শ্রমিক নিয়োগে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তাদের। একারণে তারা গত ৮ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে জাহাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার সব নথিপত্র গত ৯ জানুয়ারি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। বর্তমানে ওই জাহাজ থেকে এখন সার খালাস হচ্ছে বলেও জানান আমদানিকারক সোহাগ আহমেদ খাঁন।

তবে ১২ দিন সার খালাস বন্ধ হওয়ার ক্ষতিপূরণ দেয়া হলে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ২০২৩ সালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে আসা লাইব্রেরিয়ার পতাকাবাহী এমভি পানাগিয়া কানালা জাহাজও উচ্চ আদালতের নির্দেশে আটক ছিল।

জানা গেছে, মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আটক একটি সাধারণ ঘটনা। যা মূলত ব্যবসায়িক বিরোধ বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে ঘটে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্টগার্ড, আদালত) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *