দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় কেএনএ’র সাবেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় কেএনএ’র সাবেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম ও পাহাড়বেষ্টিত ৩নং রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের পাকনিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এর ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যে কেন্দ্রটি দুই বছর আগেও আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একটি সক্রিয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, সেটিই এবার পরিণত হয়েছে গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতীকী স্থানে।

সেনাবাহিনীর অভিযানে কেন্দ্রটি উদ্ধার হওয়ার পর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আসে ওই এলাকা। পরবর্তীতে সেখানে স্থাপন করা হয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, পাহাড়ি দুর্গম পথ এবং সীমিত যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যেও গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

হেলি-সাপোর্টেড ভোটকেন্দ্র

পাকনিয়ার কেন্দ্রটি মূলত একটি ‘হেলি সাপোর্টেড’ ভোটকেন্দ্র। দুর্গমতার কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী সরঞ্জাম হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আনা-নেওয়া করা হয়। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রিজাইডিং অফিসার আলোক দাশ।

ফলাফল ও ভোটার উপস্থিতি

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে মোট ৫২ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৮ জন এবং নারী ভোটার ৪ জন। ভোটের হার ছিল ৬.১৮ শতাংশ।

ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম হওয়ার বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার আলোক দাশ বলেন, “কেন্দ্রটি অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছানো সাধারণ ভোটারদের জন্য সহজ ছিল না। ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ও যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেই ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে। তবে যারা এসেছেন, তারা অত্যন্ত উৎসাহ ও আগ্রহের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন।”

দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় কেএনএ’র সাবেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

দুর্গম এই জনপদে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসামান্য সহযোগিতা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই এই এলাকায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ প্রদর্শন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

বিশেষ করে ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সমন্বিত তৎপরতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুরো এলাকা শান্ত ও নিরাপদ ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, রুমা উপজেলার ৩নং রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের এই কেন্দ্রটি ভৌগোলিক কারণে সবসময়ই স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত। অতীতে কেএনএ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এলাকাটি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ছিল। তবে সেনাবাহিনীর অভিযান ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে।

এক সময়ের সন্ত্রাসপ্রবণ পাহাড়ি জনপদে আজ ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা—এটি স্থানীয়দের কাছে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি এই অঞ্চলেও একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *