ভারতে সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, স্টল ভাংচুর

ভারতে সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, স্টল ভাংচুর

ভারতে সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, স্টল ভাংচুর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্বকারী খাবারের স্টল ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির যুব শাখা ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) কর্মীদের বিরুদ্ধে।

গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুংয়ারি) পুনেতে অবস্থিত মহারাষ্ট্র ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটিতে (এমআইটি-ডব্লিউপিইউ) আয়োজিত ওয়ার্ল্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যালে ঘটেছে এই ঘটনা। এরপর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, স্টল ভাংচুরের পরদিন বিজেপি সমর্থকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে বাংলাদেশের একটি পতাকা এঁকে তার ওপর পা দিয়ে অবমাননাকর আচরণও করে।

জানা যায়, ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড, ম্যানি কালচারস, ওয়ান সেলিব্রেশন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উৎসবে ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী খাবারের স্টল, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও প্রদর্শনী ছিল অনুষ্ঠানের অংশ।

কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিজেওয়াইএম কর্মীরা কোনো প্রবেশপত্র বা পরিচয়পত্র ছাড়াই এমআইটি-ডব্লিউপিইউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

flag
ক্যাম্পাসের বাইরে বাংলাদেশের পতাকা অবমাননা করার অভিযোগ/ ছবি: দ্য প্রিন্ট

উৎসবে উপস্থিত এক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে বলেন, ‘ওই ব্যক্তিদের কাছে কোনো আইডি কার্ড ছিল না। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও নন। তারপরও তারা ক্যাম্পাসে ঢুকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় এবং স্টল ভাংচুর করে। নিরাপত্তারক্ষীরা কোনো পদক্ষেপ নেননি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার গণেশ পোকলে এক বিবৃতিতে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছে। তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল চলাকালে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কিছু অননুমোদিত ব্যক্তি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’

অন্যদিকে বিজেওয়াইএমের পুনে শহর সভাপতি দুষ্যন্ত মোহল দাবি করেন, বাংলাদেশি পতাকা ব্যবহারের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের একটি চিঠি পাওয়ার পর তারা পদক্ষেপ নেন।

তিনি বলেন, ‘স্টল নিয়ে আমাদের সমস্যা ছিল না, কেবল পতাকা ব্যবহার নিয়ে আপত্তি ছিল। একটি পতাকা নামানোর বদলে তারা আরেকটি পতাকা টাঙিয়ে আমাদের উসকানি দেয়। তাই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। ভারতমাতাকে রক্ষার জন্য যদি আমাদের গুন্ডা বলা হয়, তবুও আপত্তি নেই।’

বিজ্ঞাপন

দুষ্যন্ত মোহল আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটলে আমরা আবারও পদক্ষেপ নেবো। বিশ্ববিদ্যালয় যদি আইনি ব্যবস্থা নেয়, আমরাও আইনি নোটিশ দেবো। এটা পুনে, আমরা এটিকে জেএনইউ হতে দেব না।’

তিনদিন পরও হয়নি মামলা

এদিকে, ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা দায়ের না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি।

পুনে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) সাম্ভাজি কদম বলেন, লিখিত আবেদন জমা দেওয়া আর এফআইআর নথিভুক্ত করা এক বিষয় নয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।

আইনজীবী ও অধিকারকর্মী আসিম সরোদে বলেন, ভিডিওতে সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা নেওয়া উচিত।

ভিডিও থাকা সত্ত্বেও কেন এফআইআর দায়ের করা হয়নি—এ প্রশ্নে ডিসিপি কদম বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহারাষ্ট্র যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অক্ষয় জৈন বলেন, আমরা ছোট কোনো প্রতিবাদ করলেও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আর এখানে কলেজে অনধিকার প্রবেশ ও ভাংচুরের ভিডিও থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এনসিপি (এসপি)-এর জাতীয় মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডে বলেন, দশকের পর দশক ধরে পুনেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। এই ঘটনায় পুলিশের এফআইআর করা দায়িত্ব। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী, যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও, তার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এনএসইউআইয়ের পুনে সহ-সভাপতি সিদ্ধার্থ জাম্ভুলকর বলেন, এমআইটির ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আস্থা কমিয়ে দেয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *