বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাত দফা দাবিতে নাগরিক পরিষদের স্মারকলিপি
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদ গঠন, চেয়ারম্যান পদে বাঙ্গালীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি, প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, সেনাক্যাম্পগুলোতে পুলিশের পরিবর্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ ও ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তি বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।
জেলা প্রশাসক, বান্দরবান পার্বত্য জেলার মাধ্যমে রবিবার (১ মার্চ) এ স্মারকলিপি পাঠানো হয়।
স্মারকলিপিতে সংগঠনের চেয়ারম্যান কাজী মোঃ মজিবর রহমান উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য বেড়েছে বলে দাবি করা হয়। দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চেয়ারম্যান পদে বাঙ্গালীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, পাহাড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের তৎপরতায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন এবং দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক বলে সংগঠনের দাবি। তাই এসব আইন ও চুক্তি বাতিল করে সংবিধানের আলোকে সমতলের জেলার ন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
স্মারকলিপির অনুলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনেও কাঙ্ক্ষিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য অঞ্চলের শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।