সিএইচটি নিউজের বানোয়াট ‘সেটলার পুনর্বাসন’ প্রচার: সরেজমিনে গিয়ে কিছুই পেল না সেনাবাহিনী

সিএইচটি নিউজের বানোয়াট ‘সেটলার পুনর্বাসন’ প্রচার: সরেজমিনে গিয়ে কিছুই পেল না সেনাবাহিনী

সিএইচটি নিউজের বানোয়াট ‘সেটলার পুনর্বাসন’ প্রচার: সরেজমিনে গিয়ে কিছুই পেল না সেনাবাহিনী

সেনাবাহিনীর একটি দল আজ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় পাহাড়িদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে।

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের ভিতর করল্যাছড়ি এলাকায় ৩৩৬ পরিবার বাঙালি সেটলার পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে গতকাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের চুক্তিবিরোধী আঞ্চলিক উপজাতিভিত্তিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সঙগঠন ইউপিডিএফের প্রচারমাধ্যম হিসেবে পরিচিত সিএইচটি নিউজ। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে সেনাবাহিনী এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানিয়েছে।

সেনাবাহিনীর সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, যে স্থানকে ঘিরে “৩৩৬ পরিবার সেটলার পুনর্বাসন” নিয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে, বাস্তবে সেখানে এমন কোনো উদ্যোগের অস্তিত্বই নেই। এমনকি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা “উগুদোছড়ি” নামের স্থানটিরও কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মহালছড়ির ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের ভিতর করল্যাছড়ি ও উগুদোছড়ি (উল্টাছড়ি) এলাকার মধ্যবর্তী প্রায় ৮ থেকে ১০ একর জায়গায় অন্তত ৩৩৬ পরিবার বাঙালি সেটলার পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে মহালছড়ি সেনা জোনে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, সিএইচটি নিউজের এই প্রতিবেদন মূলত অনুমান, গুজব এবং অপ্রমাণিত তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভেতরেই কোথাও নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি ঠিক কত পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে, এমনকি “উগুদোছড়ি” নামে যে স্থানটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটিরও বাস্তব কোনো অবস্থান দেখাতে পারেনি কেউ।

সিএইচটি নিউজের বানোয়াট ‘সেটলার পুনর্বাসন’ প্রচার: সরেজমিনে গিয়ে কিছুই পেল না সেনাবাহিনী
এভাবেই প্রতিনিয়ত পাহাড়ে হিংসার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিতে অপতথ্য ছড়ায় সিএইচটি নিউজ।

এ ধরনের প্রচারের সত্যতা যাচাই করতে শনিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন মহালছড়ি জোনের ক্যাপ্টেন নাহিদের নেতৃত্বে একটি সেনা টহল দল ক্যায়াংঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয় এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, সিএইচটি নিউজে যে জায়গাকে ঘিরে “সেটলার পুনর্বাসন” নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে, সেখানে এমন কোনো কার্যক্রমের চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের কাছ থেকেও জোরপূর্বক বাঙালি বসতি স্থাপনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং উপজাতি এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং এলাকায় কোনো ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাতের পরিস্থিতি নেই।

এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত তথাকথিত “৩৩৬ পরিবার পুনর্বাসন” সংক্রান্ত সংবাদটি বাস্তবতার সঙ্গে সামান্যতম সম্পর্কও রাখে না। বরং যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন সংবেদনশীল ইস্যুতে সংবাদ প্রকাশ করায় এটি পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি অপচেষ্টা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে “সেটলার পুনর্বাসন” ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। অতীতে এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই অনেক সময় অপপ্রচার চালিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সন্দেহ, আতঙ্ক ও বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হয়।

সিএইচটি নিউজের বানোয়াট ‘সেটলার পুনর্বাসন’ প্রচার: সরেজমিনে গিয়ে কিছুই পেল না সেনাবাহিনী
সেনাবাহিনীর একটি দল আজ কথিত সেই এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে।

সিএইচটি নিউজের এই প্রতিবেদনেও একই কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। প্রতিবেদনের শুরু থেকেই অস্পষ্ট ও অপ্রমাণিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি বড় ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে, কিন্তু তার পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, এই ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে ভুল তথ্য প্রচারে জড়িত দেশ-বিদেশে অবস্থানরত ইউপিডিএফ এজেন্টকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্বত্য অঞ্চলের বাস্তব পরিস্থিতিকে বিকৃত করে এ ধরনের গুজব ছড়ানো হলে তা শুধু সামাজিক সম্প্রীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

তাই দায়িত্বশীল মহল মনে করছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যেকোনো তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া উত্তেজনাপূর্ণ দাবি তুলে ধরা শুধু সাংবাদিকতার নীতিবিরুদ্ধই নয়, বরং তা সরাসরি একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।