স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনে কক্সবাজার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ
![]()
নিউজ ডেস্ক
কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবদল নেতা-কর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এ সময় সাংবাদিকদের মারধর করা হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
হামলায় আহত হয়েছেন স্থানীয় টেলিগ্রাম নিউজের সাংবাদিক মুহাম্মদ আবান এবং কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া কক্সবাজার প্রতিনিধি মিশু দাশ গুপ্ত। এছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এসময় সাংবাদিক আবানকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
এদিকে ডিবিসি টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন বাবুর মোবাইল ফোন এবং স্থানীয় দৈনীক কক্সবাজার বার্তায় কর্মরত জালালের মোবাইল ফোনসহ মোট তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মারধরের বিষয়ে আহত সাংবাদিক আবান বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে তোদের কাছে কী এই কথা বলে প্রথমে যুবদল নেতা আমির আলি আমাকে বুকে লাথি মারেন। পরে আমাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়াজিসহ কয়েকজন মিলে এলোপাতাড়ি লাথি মারতে থাকেন।”
সাংবাদিক মিশু দাশ গুপ্ত বলেন, “আমি যখন প্রশ্ন করি সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেন করা হয়েছে, তখন আমার ওপরও হামলা করা হয় এবং আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে আমার মোবাইলটি পাওয়া গেলেও কয়েকজনের মোবাইল তারা নিয়ে গেছে।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্টার নিউজের প্রতিবেদক মুহিব উল্লাহ মুহিব বলেন, “আমার সামনে যুবদল নেতা আমির আলীর নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা আমির আলি। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। দলীয় কর্মী মনে করে হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।” ভিডিওতে মারধরের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, “তাহলে সেটা ভুল বোঝাবুঝি। আমি বিষয়টি সমাধান করতে চাই।”
ঘটনার পর আবারো সাংবাদিকদের মারধরের হুমকি দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিয়াজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, তাদের “গণধোলাই” দেওয়া হয়েছে এবং আরও দেওয়া প্রয়োজন। তার এমন বক্তব্য ঘিরে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সময় বিমানবন্দর এলাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকরা সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় আকস্মিকভাবে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।