কাপ্তাই হ্রদে ১৯ কোটি টাকার রাজস্ব, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সাত মাসেই

কাপ্তাই হ্রদে ১৯ কোটি টাকার রাজস্ব, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সাত মাসেই

কাপ্তাই হ্রদে ১৯ কোটি টাকার রাজস্ব, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সাত মাসেই
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে মৎস্য আহরণ করে প্রায় ১৯ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময়ে রাজস্ব আদায় তিন কোটিরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)।

বিএফডিসি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ আগস্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ টন মাছ আহরণ করা হয়েছে। এসব মাছ বিক্রির মাধ্যমে সরকার প্রায় ১৯ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পেয়েছে।

রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত কাপ্তাই হ্রদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার হিসেবে পরিচিত। ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী নদী-র ওপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সময় রাঙামাটি জেলার প্রায় ৫৪ হাজার একর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় কাপ্তাই হ্রদ। এরপর থেকেই এই হ্রদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে একটি বিশাল মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি এবং হাজারো মানুষের জীবিকা।

প্রায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই হ্রদকে মৎস্য প্রজাতির বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ জলভান্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তিন মাস মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। গত বছরের ১ মে থেকে তিন মাস দুই দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ২ আগস্ট থেকে পুনরায় হ্রদে মাছ ধরা শুরু হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে জেলেদের জালে কাচকি, চাপিলা ও আইর মাছ বেশি ধরা পড়ছে। এসব মাছ থেকেই রাজস্বের বড় একটি অংশ আসছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকে মাছ আহরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে এসে হ্রদের পানির স্তর কিছুটা কমে যাওয়ায় মাছ আহরণের পরিমাণও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানান, চলতি অর্থবছরে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫০০ টন। ইতোমধ্যে সাত মাসেই সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে এবং প্রায় ১৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় প্রায় ২১ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, কাপ্তাই হ্রদের মাছের ওপর প্রায় ২৭ হাজার জেলে পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে। তাই হ্রদের পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং টেকসই পদ্ধতিতে মাছ আহরণ নিশ্চিত করা গেলে মাছের উৎপাদন ও রাজস্ব আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।