পাহাড়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ হলে সেনাবাহিনী ফিরে যাবে: রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার

পাহাড়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ হলে সেনাবাহিনী ফিরে যাবে: রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার

সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ: ২০ অসহাপাহাড়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ হলে সেনাবাহিনী ফিরে যাবে: রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডারয় পরিবার পেল নতুন ঘর, শতাধিক পরিবারে ঈদ উপহার বিতরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ হলে সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে তাদের স্বাভাবিক দায়িত্বে ফিরে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহিঃশত্রুর মোকাবিলা করা। তবে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বর্তমানে তারা দায়িত্ব পালন করছে।

আজ সোমবার সকালে জুরাছড়ি উপজেলায় আয়োজিত এক মানবিক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অসহায় ও গৃহহীন মানুষের জন্য নির্মিত নতুন ঘর হস্তান্তর এবং দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অনেক এলাকা এখনো উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। সমতলের তুলনায় এখানকার মানুষের সুযোগ-সুবিধা অনেক কম। তিনি বলেন, এই ব্যবধান দূর করতে হলে শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। এলাকার ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত হয়ে উঠলে তারাই ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের উন্নয়নের নেতৃত্ব দেবে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখানে থাকার কথা নয়। দেশের সীমান্ত রক্ষা ও বহিঃশত্রুর মোকাবিলা করাই সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে কিছু আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা থাকার কারণে আমাদের এখানে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আমরা চাই, এসব তৎপরতা বন্ধ হোক এবং আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব ধীরে ধীরে স্থানীয় প্রশাসনসহ পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে আমরা আমাদের মূল দায়িত্বে ফিরে যেতে পারি।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর নির্মাণের এই উদ্যোগও তারই অংশ।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছেন। নতুন ঘরগুলো অসহায় পরিবারগুলোর জীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি এনে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মানবিক এই কর্মসূচির আওতায় এদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২০টি অসহায় পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও পাঁচটি জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড ও রাঙামাটি রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে এবং জুরাছড়ি জোনের উদ্যোগে এই মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবনির্মিত ও সংস্কারকৃত ঘরগুলো উপকারভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জুরাছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান, স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নতুন ঘর পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি, আনন্দ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা এই মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উল্লেখ্য, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডারের বক্তব্যে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠার একটি স্পষ্ট প্রত্যয় ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, ‘পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ হলে সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে তাদের দায়িত্ব সীমান্তে ফিরিয়ে নেবে’—তা মূলত একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যাশাকেই সামনে নিয়ে আসে। স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন, শিক্ষা এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে ওঠার মাধ্যমে যদি পাহাড়ে সহিংসতা ও সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ হয়, তাহলে এই অঞ্চল শান্তি ও অগ্রগতির নতুন দিগন্তে পৌঁছাতে পারবে; এমন আশাই প্রকাশ পেয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক-এর বক্তব্যে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।