প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সেজে হাজার কোটি টাকা ঋণ আবেদন, ভুয়া গেজেট তৈরিকারী গ্রেপ্তার
![]()
নিউজ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া গেজেট প্রকাশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মহিউদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (২১ মার্চ) কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও সিটিটিসি-র সহযোগিতায় চকরিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান বলেন, “আরিফ মহিউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ড. আরিফ মহিউদ্দিন বা মহিউদ্দিন চৌধুরী নামে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ অ্যাডভাইজার’ (উপদেষ্টা) দাবি করতেন। তাঁর মোবাইল ফোন থেকে অসংখ্য প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেছে।”
প্রতারণার ধরণ সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আরিফ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক শাহাবুদ্দিন জামিলের সিল ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর একটি জীবনী (বায়োগ্রাফি) তৈরি করেন এবং তা বিভিন্ন দপ্তরে পাঠান। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া সরকারি গেজেট তৈরি করেন তিনি। ওই গেজেটে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সেটি বিভিন্ন সরকারি অফিসে পাঠিয়ে আসছিলেন তিনি। মূলত একটি আসল গেজেট এডিট করে তিনি নিজের নাম সেখানে বসিয়েছিলেন।
ডিবি প্রধান আরও বলেন, “আরিফ মহিউদ্দিন ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামের একটি সংগঠনের সরকারি সিল ও মনোগ্রাম ব্যবহার করেও প্রতারণা করছিলেন। ওই সংগঠনে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সভাপতি ও নিজেকে সদস্য সচিব ঘোষণা করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা ও চাঁদা দাবি করতেন তিনি। এছাড়া নিজেকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার দাবি করে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দিয়েছেন। এমনকি এক হাজার কোটি টাকা ঋণের আবেদন করে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকেও চিঠি লিখেছিলেন।”
আরিফের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে ডিবি প্রধান জানান, তিনি আগেও একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে চকরিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এছাড়া একটি সাইবার মামলায় তাঁর পাঁচ বছরের সাজাও রয়েছে। ওই সাজার বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখছে ডিবি।
আরিফ মহিউদ্দিনের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া থানার পাহাড়িকা গ্রামে। বর্তমানে তাঁকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।