জ্বালানি সংকটের মধ্যে রাঙামাটিতে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেট থাকলেই সীমিত পরিসরে অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে।
বুধবার (১ এপ্রিল) নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তিনটিতে অকটেন বিক্রি করা হয়। এতে ভোর থেকেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়ায় তাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

বর্তমানে তেল নিতে হলে মোটরসাইকেল চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র ও হেলমেট বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও ভোগান্তি কমেনি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শহরের মেসার্স এসএন পেট্রোলিয়াম এজেন্সিতে তেল নিতে আসা মো. নাজির উদ্দিন সোহাগ বলেন, “কাগজ যাচাইয়ের এই ব্যবস্থা আগে চালু হলে বিশৃঙ্খলা কম হতো। কিন্তু এখনো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না।”

আরেক চালক সেতু চাকমা বলেন, “একদিন পরপর তেল দেওয়া হচ্ছে, আবার দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত তেল পেলে অন্তত এক সপ্তাহ চলতে পারতাম।”
ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, “যাদের বৈধ কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট রয়েছে, তাদেরকেই অকটেন দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নৌপরিবহনেও। কাপ্তাই হ্রদে অকটেন সংকটের কারণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাঙামাটি স্পিডবোট লাইনের লাইনম্যান মহি উদ্দিন জানান, পাম্প থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

তবে এখনো সীমিত পরিসরে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে যেকোনো সময় লঞ্চ চলাচলও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ৬টিতে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। ফলে জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জনজীবন ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।