পাহাড়ে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত: সেনাবাহিনী নির্মিত আলীকদম–পোয়ামুহুরী সড়ক সওজের কাছে হস্তান্তর

পাহাড়ে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত: সেনাবাহিনী নির্মিত আলীকদম–পোয়ামুহুরী সড়ক সওজের কাছে হস্তান্তর

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদম থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার সড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম এই সড়কটি নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) পোয়ামুহুরী নদীর চরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটি হস্তান্তর করে।

পাহাড়ে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত: সেনাবাহিনী নির্মিত আলীকদম–পোয়ামুহুরী সড়ক সওজের কাছে হস্তান্তর

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারহান এবং সভাপতিত্ব করেন ১৭ ইসিবিরি প্রকল্প পরিচালক মেজর এহসানুর আকাশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি এই সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ১৭ ইসিবি আলীকদম জালানীপাড়া থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ সম্পন্ন করে। যদিও মূল কাজ ২০২২ সালেই শেষ হয়, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২০২৬ সালে এসে তা সড়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলো।

সেনাবাহিনী কর্তৃক আলীকদম–পোয়ামুহুরী ৩৭.৫ কিমি সড়ক সওজের কাছে হস্তান্তর, চ্যালেঞ্জ জয় করে সফল বাস্তবায়ন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বান্দরবানের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে নির্মিত আলীকদম–পোয়ামুহুরী ৩৭.৫ কিলোমিটার সড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এ সড়কটি সওজের নিকট হস্তান্তর করা হয়। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ ২০২২ সালে শেষ হলেও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করে সম্প্রতি সড়কটি হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করা হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে মোট ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা অর্থ সাশ্রয় হয়েছে, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এ সড়কটি পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব‍্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পানি সংগ্রহের তীব্র সংকট, দূরবর্তী অবস্থানের কারণে নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চ ব্যয়, বিভিন্ন স্থানে কঠিন পাথুরে পাহাড়, পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হুমকি এবং শ্রমিক সংকট—এসব বড় বাধা হিসেবে দেখা দেয়। এছাড়া দুর্গম পাহাড়ি সড়কে কাজ করার সময় যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকিও ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে এসব প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়ক চালু হওয়ার ফলে যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে। ফলে তারা এখন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের সড়ক নির্মাণ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করে। তবে সড়কটির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সড়ক ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্থ সাশ্রয় ও সড়েকের সুফল উল্লেখ করে একটা নিউজ বানাও

প্রায় ৫০০ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি দক্ষতা ও স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কাজ শেষে প্রায় ৩০ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিয়ে সেনাবাহিনী তাদের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার অনন্য নজির স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্গম এই অঞ্চলে সড়ক নির্মাণের ফলে মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হয়েছে। আগে যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতেন। এখন সড়ক চালু হওয়ায় সহজেই পণ্য পরিবহন সম্ভব হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষকরা বাজারে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন।

পাহাড়ে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত: সেনাবাহিনী নির্মিত আলীকদম–পোয়ামুহুরী সড়ক সওজের কাছে হস্তান্তর

স্থানীয় কারবারি ইয়ারিং জানান, “আগে চলাচল ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। এখন সড়ক হওয়ায় দ্রুত যাতায়াত করা যায়। আমাদের উৎপাদিত ফসলও সহজে বাজারে নিয়ে যেতে পারছি এবং ভালো দাম পাচ্ছি।”

স্থানীয়দের মতে, এই সড়ক শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যেখানে একটি সড়কই পারে জীবন বদলে দিতে, সেখানে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১৫ কিলো ভিউ পয়েন্ট থেকে আলীকদম-পোয়ামুহুরী সীমান্ত সড়ক
১৫ কিলো ভিউ পয়েন্ট থেকে আলীকদম-পোয়ামুহুরী সীমান্ত সড়ক

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আলীকদম–পোয়ামুহুরী সড়ক নির্মাণ ও হস্তান্তর তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সড়কটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এটি ভবিষ্যতে অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed