দুর্গম প্রাতাপাড়ায় আস্থা ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত: বম জনগোষ্ঠীকে সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বান্দরবান পার্বত্য জেলার থানচি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বম জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা প্রাতাপাড়ায় মানবিক সহায়তা প্রদান ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়ন ও আস্থার বন্ধন সুদৃঢ় করতে এ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সকালে বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আতিকুল করিম এবং বাকলাইপাড়া সাবজোন কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেসবাহ উদ্দিনের উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বম সোশাল কাউন্সিলের সভাপতি লাল জারলাম বম, সিনিয়র সহ-সভাপতি লালসাংতাউন বম, সহ-সভাপতি লাললিয়ানসাং বম, সাধারণ সম্পাদক লাললিয়ানসাওম বম, উপদেষ্টা লাললুংরুয়াল বম, কোষাধ্যক্ষ ভানা বম, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক লালভান্টলিং বম সহ বম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, কারবারি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ পাড়াবাসী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রাতাপাড়ার কিয়াং ঘরের জন্য ২৪টি চেয়ার ও একটি টেবিল এবং শেরকর পাড়ার কিয়াং ঘরের জন্য সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি প্রদান করা হয়। এসব সহায়তা স্থানীয়দের সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পার্বত্য অঞ্চলে চলমান উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের মতামত ও প্রত্যাশা সরাসরি শোনার মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়, যা পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সভায় অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আতিকুল করিম বলেন, বিভিন্ন কারণে কিছু পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় স্থানীয় সামাজিক ও নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রভাব পড়ছে। তিনি উপস্থিত পাড়াবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান, সম্মিলিত উদ্যোগে এসব পরিবারকে পুনরায় নিজ বসতভিটায় ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করার জন্য। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে থেকে তাদের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বম সোশ্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট লাল জারলাম বম সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের মানবিক সহায়তা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে সরকারি সেবা পৌঁছানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে সেনাবাহিনীর এই ধরনের সরাসরি সহায়তা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা এবং মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও সহনশীল সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ও উন্নয়নের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রায় ১২০ জন পাড়াবাসীর অংশগ্রহণে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।