পানছড়িতে বিজিবির সফল অভিযান, সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করে ১৪শ রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার দুর্গম সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সফল অভিযানে ১,৪০০ রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযান চলাকালে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের ঘেরাও প্রচেষ্টা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিহত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির একটি টহলদল নায়েব সুবেদার মো. শাহআলম-এর নেতৃত্বে বৌদ্ধমনিপাড়া এলাকার কাঠালতলী যাত্রী ছাউনি এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় সীমান্ত সড়ক দিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা মোটরসাইকেল ফেলে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১,৪০০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব গোলাবারুদ সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল।
এদিকে, উদ্ধারকৃত গোলাবারুদ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে নেওয়ার পথে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আনুমানিক ১০০ থেকে ১১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল বিজিবি টহলদলকে ঘেরাও করার চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবি সদস্যরা দৃঢ় অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাটালিয়ন সদর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এস. এম. ইমরুল কায়েস-এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত দুটি টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

বিজিবির দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার ফলে সন্ত্রাসী দলটি ধীরে ধীরে পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অভিযান চলাকালে বিজিবি সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী ও চোরাকারবারীরা বিভিন্ন কৌশলে অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলেও গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিজিবির এ ধরনের দ্রুত ও সফল অভিযান সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।