প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিনর সিইওর সাক্ষাৎ, মিয়ানমার ইস্যুতে একই সময়ে মামলার মুখে কোম্পানি
![]()
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নরওয়ের টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলিনর গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যেই মিয়ানমারে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সামরিক জান্তার কাছে সরবরাহের অভিযোগে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের খবরও সামনে এসেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে, প্রায় একই সময়ে মিয়ানমারের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সামরিক জান্তার হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে নরওয়েতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছে সুইডেনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা Justice and Accountability Initiative (জেএআই)। মামলাটিকে সমর্থন দিচ্ছে Open Society Justice Initiative।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান ২০২১-এর পর টেলিনর ব্যবহারকারীদের কল লগ, অবস্থান, নাম-ঠিকানা, জাতীয় পরিচয় তথ্য এমনকি মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করে। এসব তথ্য ব্যবহার করে জান্তা সরকার বিরোধী সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেএআই-এর দাবি, টেলিনর মিয়ানমার অন্তত ১,২৫৩টি ফোন নম্বরের তথ্য জান্তার কাছে দিয়েছে, যদিও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব মূল্যায়নেই সতর্কতা ছিল। মামলায় প্রতি গ্রাহকের জন্য ৯ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জনপ্রিয় র্যাপার ও সাবেক সংসদ সদস্য ফিও জেয়ার থাও-এর তথ্য সরবরাহের অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাকে ২০২২ সালে সামরিক জান্তা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। তার স্ত্রী থা জিন অভিযোগ করেন, টেলিনরের তথ্য সরবরাহের পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রাহকের তথ্য জান্তার হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে নরওয়েতে মামলা
২০২২ সালের মার্চে টেলিনর তাদের মিয়ানমার কার্যক্রম বিক্রি করে দেয় ইনভেস্টকম পিটিই লিমিটেডের কাছে, যা এম১ গ্রুপ এবং স্থানীয় শ্বে ব্যাইং ফিউ (এসবিপি)-এর যৌথ উদ্যোগ। এসবিপি’র সঙ্গে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং-এর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে Justice for Myanmar এবং International Commission of Jurists Norway টেলিনরের বিরুদ্ধে আলাদা ফৌজদারি মামলাও করেছে। একই সঙ্গে নরওয়ের পার্লামেন্ট বিষয়টি তদন্ত করছে।
প্রসঙ্গত, টেলিনরের বিরুদ্ধে এ মামলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে করপোরেট দায়বদ্ধতা ও মানবাধিকার ইস্যুকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইস্যুর প্রভাব কোম্পানিটির বৈশ্বিক কার্যক্রম ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও পড়তে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।