কিষাণ-কিষাণির হাতে উঠল কার্ড, মিলল আড়াই হাজার টাকা

কিষাণ-কিষাণির হাতে উঠল কার্ড, মিলল আড়াই হাজার টাকা

কিষাণ-কিষাণির হাতে উঠল কার্ড, মিলল আড়াই হাজার টাকা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বাইশ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠিয়ে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পহেলা বৈশাখে দুপুর সোয়া ১২টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে এক কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করা মাত্রই টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের ১১ উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে যায়।

এর মধ্য দিয়ে আরেকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে আরেক ধাপ এগোল বিএনপি সরকার। এর আগে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খালখনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

সরকারপ্রধান টাঙ্গাইলে ১৫ জন চাষির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন। তারা হলেন—আবু কায়সার, রোমান, শাহনুর আলম, শাহ আলম, জুলেখা আখতার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মনোয়ারা আখতার, শামীমা আখতার, লায়লা বেগম ও তাহমিনা।

এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। মঞ্চে উঠে তিনি কিষাণ-কিষাণিদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক কিষাণ ও এক কিষাণি ‘কৃষি কার্ড’ নিয়ে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, কৃষি মন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শি অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, শুরুতে দেশের ১১টি উপজেলায় কর্মসূচির প্রাক-পাইলটিং পর্যায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে ‘কৃষক কার্ড’ পাচ্ছেন ২২ হাজার ৬৫ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক। এ কার্ডের মাধ্যমে বছরে দুই হাজার পাঁচশ টাকা নগদ সুবিধা পাবেন তারা।

এদিনই দেশের আরও ৯ উপজেলায় প্রাক-পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—পঞ্চগড় সদরের কমলাপুর, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপি এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা।

আর কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে ১৭ এপ্রিল।

প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ প্রাক-পাইলটিং শেষ হওয়ার পর দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেন, “পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

কৃষিমন্ত্রী আমিন বলেন, দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তবে আর্থিক সুবিধা পাবেন কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক।

কৃষক কার্ডে মিলবে যেসব সুবিধা

কৃষক কার্ড আদতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ডেবিট কার্ড; সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে তার বিপরীতে এ কার্ড তৈরি করা হয়েছে।

এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন—

• ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ

• ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা

• সহজ শর্তে কৃষিঋণ

• স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি

• সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা

• মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য

• কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

• ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ

• কৃষি বিমা সুবিধা

• ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুবিধা

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিলারের পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ,মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানান, দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তবে আর্থিক সুবিধা পাবেন কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *