মাতাই পুখিরি নিয়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মুগ্ধ রাঙামাটির সাংবাদিক বিহারি চাকমা
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলার নুনছড়ি মৌজায় অবস্থিত ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান ‘মাতাই পুখিরি’ (দেবতা পুকুর) সংরক্ষণ ও পরিচিতি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিত তথ্যসমৃদ্ধ বিলবোর্ড ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে আজ সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন রাঙামাটির প্রথিতযশা সাংবাদিক বিহারি চাকমা।
তার পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের এই উদ্যোগ কেবল একটি দর্শনীয় স্থানের পরিচিতি তুলে ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি, ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি বলেন, একটি পবিত্র তীর্থস্থানকে ঘিরে এ ধরনের মননশীল ও পরিশ্রমী উপস্থাপন সত্যিই প্রশংসনীয়।
সেনাবাহিনীর স্থাপন করা বিলবোর্ডে ‘দেবতা পুকুর ও নুনছড়ি ছড়া’ শিরোনামে স্থানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক পটভূমি, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং স্থানীয় কিংবদন্তিগুলো সংক্ষিপ্ত অথচ চমৎকার ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, আলুটিলা পর্বতশ্রেণী থেকে উৎপন্ন নুনছড়ি ছড়ার স্বচ্ছ জলধারা ও বিশাল পাথরের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এক মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

প্রায় এক হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পুকুরটি ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের কাছে ‘মাতাই পুখিরি’ নামে পরিচিত, যেখানে ‘মাতাই’ অর্থ দেবতা এবং ‘পুখিরি’ অর্থ পুকুর। প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিতে এখানে বৃহৎ তীর্থমেলার আয়োজন করা হয় এবং ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রাচীনকালে এক জুমচাষিকে স্বপ্নে এই পাহাড়ে চাষাবাদ না করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা অমান্য করেন। পরবর্তীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সেখানে সৃষ্টি হয় একটি বিশাল জলাশয়, যা আজ ‘দেবতা পুকুর’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের বিশ্বাস, পুকুরটির পানি কখনো শুকায় না এবং এতে দেবতার আশীর্বাদ বিরাজমান।
বিহারি তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, বিলবোর্ডটির ভাষা, উপস্থাপন ও তথ্যবিন্যাস অত্যন্ত যত্নসহকারে করা হয়েছে, যা একটি দক্ষ ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানুষের অনুভূতিকে এমন সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”

তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, সেখানে অবস্থানকালে এক ত্রিপুরা তরুণকে পুকুর থেকে একটি মৃত মাছ সরিয়ে নিতে দেখেন। কারণ জানতে চাইলে ওই তরুণ জানান, পুকুরের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে তারা সেখানে মাছ ভক্ষণ করেন না এবং পানি দূষণ এড়াতে মৃত মাছ সরিয়ে ফেলেন। এ ঘটনাকে তিনি স্থানীয়দের দায়িত্ববোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, দেবতা পুকুর কেবল একটি প্রাকৃতিক নিদর্শন নয়; এটি খাগড়াছড়ির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং পর্যটন সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের ফলে স্থানটির গুরুত্ব নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। মাতাই পুখিরি সংরক্ষণে এ উদ্যোগও তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।