বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ
![]()
নিউজ ডেস্ক
আজ ২০ এপ্রিল (সোমবার)। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এর ৫৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের এই দিনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাঙ্গে সম্মুখ সমরে মর্টার শেলের আঘাতে শহীদ হন।
তিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় রাঙ্গামাটি সেক্টরে তৎকালীন ইপিআর বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক আসায় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে এলাকায় চেঙ্গী নদীর তীরে মুক্তি বাহিনীর ওপর পাকহানাদার শত্রু বাহিনী ২টি লঞ্চ ও ৭টি স্পিট বোর্ড করে এসে আক্রমণ করে। এই সময় সঙ্গীদের বাঁচানোর জন্য সেখানে প্রাণপণ যুদ্ধ করে তিনি একাই শত্রু বাহিনীর তিনটি নৌযান ধ্বংস করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। এই সময়ে হঠাৎ একটি মটারের গোলা এসে তাকে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দেন। এই মহান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটের কাপ্তাই হ্রদের নির্জন দ্বীপে চিরশায়িত রয়েছে।
১৯৪৩ সালের ১ মে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম মুন্সি মেহেদি হাসান ও মুকিদুন্নেসার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন বাঙালী এই মহান যোদ্ধা। স্থানীয় দয়াল কৃষ্ণ চাকমা তার মরদেহ উদ্ধার করে তাকে এই দ্বীপে সমাহিত করেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান বিবেচনা করে সরকার তাকে দেশের শ্রেষ্ঠ খেতাব প্রদান করে।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি তার উইংয়ে কর্মরত অবস্থায় ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে শাহাদাত বরণ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্বের জন্য সরকার তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাঙামাটির বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন কর্তৃক জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা, মিলাদ ও কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননার আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া তার জন্মস্থান ফরিদপুর জেলার মধুখালীর কামারখালীতে নানা আয়োজন রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।