পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯১ শতাংশের বেশি
![]()
নিউজ ডেস্ক
গত বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোট হয়েছে। এতে ৯১ দশমিক ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোট শেষ হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাবি, গতকাল প্রথম দফার নির্বাচনে বিজেপির বিজয় ঘন্টা বেজে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনে ভোট হয়েছে। সেখানে ভোট শতাংশের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৬৯।
আগামী ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় ও শেষ দফার নির্বাচন। ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে। তার আগে শুক্রবার ২৪ এপ্রিল দুপুরে রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পানিহাটির অমরাবতী মাঠে একটি নির্বাচনী প্রচারণা থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর লোকজনকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। এরপর তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের যে ঢেউ দেখা গেছে গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রথম দফার নির্বাচন তাতে সীলমোহর লাগিয়ে দিয়েছে।
গতকাল বিজেপির পক্ষে যে সমর্থন দেখা গেছে তাতে বিজেপির বিজয় ঘন্টা বেজে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মোদী বলেন, যে বাংলায় গণতন্ত্রের মন্দিরকে তৃণমূল কংগ্রেস পিষে দিয়েছে, তৃণমূলের একনায়কতন্ত্র গণতন্ত্রের মন্দিরকে খন্ড বিখন্ড করে দিয়েছে-সেই বাংলার মানুষ প্রথম দফার নির্বাচনে গণতন্ত্রের মন্দিরকে পুনঃনির্মাণ করেছে। এবার দ্বিতীয় দফায়, আপনাদের সবাইকে গণতন্ত্রের জয়ের পতাকা ওড়াতে হবে।
মোদীর কথায়, গতকালের পর তৃণমূলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। গতকাল রাত থেকেই তৃণমূল তাদের গুন্ডাদের মাঠে নামার জন্য শক্তি দিচ্ছে, উৎসাহিত করছে। তিনি বলেন, আমি বাংলার মানুষ, বিজেপির সব কার্যকর্তাদের বলতে চাই, এই বাংলা বিপ্লবের মাটি, বীরেদের মাটি…।
তিনি আরও বলেন, সব প্রদীপ নেভার আগের কিছুটা দপ করে জ্বলে ওঠে। ঠিক সেভাবেই তৃণমূলের প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে কিছুটা দপ দপ করছে। ৪ মে ফলাফল সামনে আসার পর তৃণমূলের গুন্ডাদের বাংলাতে লুকোনোর জায়গা পাওয়া পাবে না, ওদের বাঁচানোর কেউ থাকবে না। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার নির্বাচনে তৃণমূলের মহাঅরাজকতা শেষ হবার সূচনা হয়ে গেছে। আজ গোটা বাংলায় একটা স্লোগান শোনা যাচ্ছে সেটা হল ‘পাল্টানো দরকার’।
এরপরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, আপনাদের একটা ভোটেই নতুন বিপ্লবের সূচনা হবে। বাংলার মানুষের কাছে, আপনারা একটা ভোটের মাধ্যমে আশীর্বাদ দিন, আমরা সবাই মিলে তৃণমূলের ভয়ের পরিবেশ, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, নারীদের ওপর অত্যাচার, অনুপ্রবেশ- সব কষ্ট থেকে স্বাধীনতা দেব। এই স্বাধীনতা খুবই প্রয়োজন।
এসময় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে সব বিজেপি প্রার্থীকে বিধানসভায় পাঠাতে হবে। তাই আপনাদের আশীর্বাদ নিতে আমি এসেছি। বিজেপির সরকার তৈরি করতে হবে, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বানাতে হবে- এ কারণে আমি আপনাদের আশীর্বাদ নিতে এসেছি। যাতে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী একসাথে মিলে কাজ করতে পারে। দিনে ও রাতে একসাথে উন্নয়ন করতে পারে।’
যাদবপুরে অন্য একটি সভা থেকে মোদী বলেন, একটা সময় যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্মানের সাথে নেওয়া হতো, কিন্তু আজ ক্যাম্পাসের ভেতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, দেওয়ালে দেশ বিরোধী কথা লেখা হচ্ছে। এখানে পড়াশোনার বদলে শিক্ষার্থীরা সড়কে গিয়ে অবরোধ করছে। মানুষ এখানে অরাজকতা চায় না, শিক্ষার পরিবেশ চায়। যেখানে রাজ্য সরকার একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে পারে না সেখানে গোটা রাজ্যের মানুষকে কিভাবে বাঁচাবে।
মোদীর বক্তব্যের পরেই পাল্টা নিশানা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বলেন, ভোট কেটেও কিছু হবে না। কালকে দেখেছো গ্রাম বাংলায়? ৯৩ শতাংশ ভোট! মোদি বাবু, তোমার বিরুদ্ধেই এই ভোট। তার কারণ তোমরা এসআইআর এর নামে মানুষের ওপর যে অত্যাচার করেছ… প্রায় ৩০০ জন মারা গেছে। কালকেও ভোটের লাইনে চারজন মারা গেছে, মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না।
মমতার অভিযোগ, যারা নারীদের ওপর অত্যাচার করে বিজেপি তাদেরকে টিকিট দেয়। আবার বলে বাংলা নাকি জ্বলছে। আমি বলবো বাংলা জ্বলছে না, আপনি নিজে জ্বলছেন। ৪ মে তারিখে ভোটের ফলাফল বের হবে। তখন আপনারা দেখবেন আর লুচির মত ফুলবেন। আমাদের যেসব মাইনাস জায়গা ছিল, গতকাল আমরা সেখানে এগিয়ে গেছি। বিজেপি অনেক বেশি আসনে হারবে। গতবারে যে কটা আসন পেয়েছিল, এবার তার অর্ধেকও পাবেনা। সেজন্যে অমিত শাহকে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী আজকে যাদবপুরের শিক্ষার্থীদের যে ভাষায় আক্রমণ করেছে আমি মনে করি ছাত্র সমাজের প্রতিবাদ করা উচিত। কারণ ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের গর্ব। মোদী বলেছেন, ওখানে নাকি নৈরাজ্য হয়েছে উনি কি এক পয়সা দিয়েছেন অনেকে জানেন যাদবপুর এক নম্বরে ব্যাংকে আছে?
প্রধানমন্ত্রীর নৌকা ভ্রমণ নিয়ে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, আজকে উনি আবার নৌকা বিহার করেছেন। বাংলার গঙ্গা পরিস্কার, তাই আপনি সকাল বেলায় নৌকা বিহার করে হাওয়া খেয়েছিলেন। এটা ভোটের রাজনীতি, ফটো শুটিং। আপনি একবার যমুনাতে গিয়ে দুধ দিয়ে আসেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের হার দেখে খুশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এদিন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলা চলাকালীন প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের হার দেখে আমি খুব খুশি। তার পর্যবেক্ষণ, যখন মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, তখন তারা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।