মিয়ানমারের সামরিক-নিয়ন্ত্রিত সরকারকে প্রত্যাখ্যানে আসিয়ানের প্রতি আহ্বান
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের ভেতরে ও বাইরে শত শত নাগরিক সমাজ সংগঠন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক জোট Association of Southeast Asian Nations (আসিয়ান)-এর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা দেশটির নতুন সামরিক-নিয়ন্ত্রিত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
রোববার পাঠানো এক খোলা চিঠিতে ২০১টি সংগঠন—যার মধ্যে রয়েছে Progressive Voice (PV) এবং Justice for Myanmar (JFM)—আসিয়ানের প্রতি আহ্বান জানায় যেন তারা আঞ্চলিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে জান্তা প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে।
সংগঠনগুলো দাবি করে, নতুন সরকারটি “অত্যন্ত সহিংস” একটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত, যেখানে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ভোটার অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত ছিল এবং আরও প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ ভোট বর্জন করেছিল। তারা আরও জানায়, জান্তা সরকারের ডিসেম্বর-জানুয়ারির নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২০২০ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত ২ কোটি ৫৯ লাখ ভোটের অর্ধেক মাত্র, যে নির্বাচন পরে সামরিক বাহিনী বাতিল করে দেয়।
চিঠিতে বলা হয়, “আসিয়ানকে অবশ্যই সামরিক-নেতৃত্বাধীন ছদ্ম ‘সরকার’, সংসদ এবং তাদের প্রতিনিধিদের বৈধতা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।”
সংগঠনগুলো আরও আহ্বান জানায়, আসিয়ান যেন জান্তার জন্য অস্ত্র ও বিমান জ্বালানির সরবরাহ চেইন বন্ধে উদ্যোগ নেয়, যা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী বিমান হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো সদস্য রাষ্ট্র যেন এই হামলায় ব্যবহৃত সম্পদের ট্রানজিট বা সরবরাহ পথ না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তা বাহিনী মোট ৯,৭৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৭,৩৩০টি বোমা হামলা, ১,৩০৫টি ড্রোন হামলা, ৮২০টি প্যারামোটর আক্রমণ এবং ৩৩৯টি গাইরোকপ্টার হামলা। এসব হামলায় ৪,৮৫৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ১,২০০টি বেসামরিক স্থাপনা—যার মধ্যে স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রয়েছে—ধ্বংস হয়েছে।
সংগঠনগুলো আসিয়ান এবং এর বিশেষ দূতকে আহ্বান জানায় যেন তারা গণতান্ত্রিক পক্ষগুলোর সঙ্গে—যেমন জাতীয় ঐক্য সরকার (NUG) এবং জাতিগত বিপ্লবী সংগঠন (EROs)—যোগাযোগ করে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলে, যা মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির ওপর ভিত্তি করে।
তারা অবিলম্বে সহিংসতা, বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ এবং রাজনৈতিক বন্দিদের আটকের অবসানেরও দাবি জানায়।
চিঠিতে আসিয়ানকে আহ্বান জানানো হয় যেন তারা বিচার কার্যক্রমে সহায়তা করে, বিশেষ করে সদস্য দেশ তিমুর-লেস্তে ও ইন্দোনেশিয়ায়, যাতে জান্তা নেতাদের যুদ্ধাপরাধসহ অন্যান্য অপরাধের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি করা যায়।
এছাড়া স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলো আসিয়ানকে আহ্বান জানায় যেন তারা জান্তাকে পাশ কাটিয়ে জাতীয় ঐক্য সরকার (NUG), জাতিগত সংগঠন ও স্থানীয় কমিউনিটি সংস্থার মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে মানবিক সহায়তা সরবরাহ নিশ্চিত করে। তাদের মতে, জান্তার সহিংসতা ও সহায়তা বাধার কারণে মানবিক সংকট তীব্রতর হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে মিয়ানমারে ৩.৭ মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ২০২৬ সালে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করবে।
সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলে, “আসিয়ানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কি মিয়ানমারের জনগণের পাশে থাকবে, নাকি সামরিক বাহিনীর চলমান অপরাধে জড়িত থাকবে।”
তারা আসিয়ান চেয়ারম্যান ফিলিপাইনকে আহ্বান জানায় যেন তিনি একটি নীতিনিষ্ঠ ও অধিকারভিত্তিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন, যা একটি ফেডারেল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যুত্থান নেতা Min Aung Hlaing ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিজেদের সামরিক ইউনিফর্ম ত্যাগ করে তথাকথিত বেসামরিক সরকার ও সংসদ গঠন করেছেন, যা বির্তকিত নির্বাচনের পর গঠিত হয়েছে।
এদিকে জান্তা বাহিনী প্রতিরোধ এলাকাগুলোতে অগ্নিসংযোগ অভিযান ও বিমান হামলা জোরদার করেছে। মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০০ জন বেসামরিক নিহত এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।