মিয়ানমারভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী কেএনএ’র হামলায় মণিপুর সীমান্তে আতঙ্ক, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের মণিপুর রাজ্যের কামজং জেলায় মিয়ানমারভিত্তিক সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (৭ মে) ভোররাতে এ হামলার ঘটনায় একাধিক ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকায় গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বিধায়ক লেইশিও কিশিং এ ঘটনাকে “সীমান্তপারের আগ্রাসন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মিয়ানমারভিত্তিক কুকি ন্যাশনাল আর্মি এবং People’s Defence Force (পিডিএফ)-এর সদস্যরা ভোর ৪টার দিকে কাসোম খুলেন থানার নিকটবর্তী এলাকায় হামলা চালায়।
হামলায় নামলি, ওয়াংলি ও চোরো গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা জানান, নামলি গ্রামে দুটি, ওয়াংলি গ্রামে তিন থেকে চারটি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চোরো গ্রামের গির্জা ছাড়া প্রায় সব স্থাপনাই আগুনে ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার সময় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যার ফলে বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এ ঘটনায় এক নাগা ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়া এক ভাইফেই সম্প্রদায়ের বাসিন্দা আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
বিধায়ক লেইশিয়ো কেইশিং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাত্র ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে আসাম রাইফেলসের ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। তিনি জানান, গ্রামবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে অধিক নিরাপত্তার জন্য ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (আইআরবি) মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
তিনি ভারত সরকার ও মণিপুর রাজ্য সরকারকে দ্রুত ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান। তার মতে, মিয়ানমারের চলমান অস্থিরতার প্রভাব সীমান্তবর্তী মণিপুর অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।