মণিপুরে নতুন করে সহিংসতায় নিহত ৪, জিম্মি অন্তত ৩৮ জন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মণিপুরে নতুন করে সহিংসতায় নিহত ৪, জিম্মি অন্তত ৩৮ জন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মণিপুরে নতুন করে সহিংসতায় নিহত ৪, জিম্মি অন্তত ৩৮ জন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মণিপুর রাজ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে নাগা ও কুকি—উভয় সম্প্রদায়ের অন্তত ৩৮ জনকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী জিম্মি করে রেখেছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কনথৌজাম।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “দুই সম্প্রদায়ের ৩৮ জনেরও বেশি মানুষকে বিভিন্ন গোষ্ঠী আটকে রেখেছে। তাদের মুক্তির জন্য সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

এর একদিন আগে কাংপোকপি জেলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের গুলিতে তিনজন চার্চ নেতা নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। অন্যদিকে, নোনে জেলার জৌজাংটেক এলাকার কাছে পৃথক ঘটনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন এবং তার স্ত্রী আহত হন।

বৃহস্পতিবার নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি ইম্ফল পূর্ব জেলার জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা মরদেহ পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে তিনজন নাগা বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন।

গোবিন্দাস কনথৌজাম বলেন, “আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাদের মুক্তির জন্য চেষ্টা চলছে। আমরা সন্দেহ করছি, কিছু গোষ্ঠী মণিপুরে শান্তি ফিরে আসুক—তা চায় না।”

এদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় তাফৌ কুকি গ্রামের চেয়ারম্যান এল. চংলোই সেনাপতি থানায় অভিযোগ করেন, সাতটি ট্রাক ও একটি প্রাইভেট কারে করে যাওয়া ২৩ জন গ্রামবাসীকে অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকজন আটক করেছে।

যদিও নিরাপত্তা বাহিনী এখনো তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সহিংসতার ঘটনায় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে অবিশ্বাস গভীরতর হয়েছে।

এদিকে, কুকি-জো ও নাগা সংগঠনগুলোর ডাকা পৃথক ধর্মঘটে বৃহস্পতিবার কাংপোকপি, চুরাচাঁদপুর ও চান্দেল জেলায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বাজার-দোকান বন্ধ ছিল, সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতি কমে যায়।

এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয় তিন চার্চ নেতা ও নোনে জেলার ওই বেসামরিক ব্যক্তির হত্যার প্রতিবাদে। মণিপুর ও মিজোরাম সরকার এ হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed