মাগওয়ে-চিন সীমান্তে সেনা সমাবেশ জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

মাগওয়ে-চিন সীমান্তে সেনা সমাবেশ জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

মাগওয়ে-চিন সীমান্তে সেনা সমাবেশ জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সেনাবাহিনী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের মাগওয়ে অঞ্চল ও চিন রাজ্যের সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর সো (Saw)-এ ৩৫০ সদস্যের একটি সামরিক বহর পৌঁছেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

এই সেনারা মূলত ৫০০ সদস্যের একটি বড় বাহিনীর অংশ, যারা গত এপ্রিল মাসে সো শহরের দক্ষিণে লাউংশে টাউনশিপে অবস্থিত অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি নং-২৫ (KaPaSa-25)-এ জড়ো হয়েছিল। লাউংশে শহরে পৌঁছানোর পর প্রায় ১৫০ জন সেনা সেখানে অবস্থান নেয়, আর বাকিরা উত্তরের দিকে অগ্রসর হয়।

পথিমধ্যে প্রতিরোধ বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালালেও ভারী বিমান সহায়তার কারণে সেনারা প্রায় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই এগিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে প্রতিরোধ সূত্র জানিয়েছে।

এরই মধ্যে আরেকটি ২০০ সদস্যের সেনাদল আরও উত্তরের ইয়াও (Yaw) এলাকার কাংগি (Kangyi) গ্রামে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে থেকে সড়কটি চিন রাজ্যের মিন্দাত শহরের দিকে বিভক্ত হয়েছে। এই বাহিনীটি ইয়াওয়ের পূর্বে অবস্থিত কিয়াউখতু এলাকার আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন-৩৬৮ থেকে এসে এপ্রিলের শেষ দিকে গ্রামটি দখল করে। এখান থেকে মিন্দাত শহরের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার।

কাংগি দখলের পর সেনাবাহিনী ওই এলাকার পশ্চিমমুখী একমাত্র প্রধান সড়কে অবরোধ আরোপ করেছে এবং চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের আটক শুরু করেছে বলে প্রতিরোধ সূত্র জানিয়েছে।

এই অগ্রগতি প্রতিরোধ বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে ইয়াও অঞ্চলজুড়ে—যার মধ্যে গাঙ্গাও, তিলিন ও সো টাউনশিপ রয়েছে—প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ছিল। এসব বাহিনীর মধ্যে ইয়াও আর্মি (YA) ও ইয়াও ডিফেন্স ফোর্সেস উল্লেখযোগ্য।

গত এপ্রিলের শেষ দিকে সেনাবাহিনী কিয়াউখতু বিমানঘাঁটিতে অস্ত্র ও রসদ আকাশপথে পাঠিয়ে আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন-৩৬৮-কে শক্তিশালী করা শুরু করে। ৮ মে থেকে মাগওয়ে-চিন সীমান্তজুড়ে বিমান নজরদারি ও হামলাও শুরু করে তারা।

একই সময়ে দীর্ঘ ছয় মাসের অভিযানের পর এপ্রিলের শেষ দিকে চিন পাহাড়ের উচ্চভূমিতে অবস্থিত ফালাম শহরের নিয়ন্ত্রণও নেয় সেনাবাহিনী।

এর আগে ২০২৪ সালে চিনের প্রতিরোধ বাহিনী ও প্রতিবেশী রাখাইন রাজ্যের আরাকান আর্মি (AA) যৌথভাবে কানপেটলেট, মিন্দাত, মাতুপি ও কিয়িন্ডওয়ে শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে চিনের নয়টি টাউনশিপের গ্রামীণ এলাকা প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শহরাঞ্চলে সীমিত উপস্থিতি রয়েছে সেনাবাহিনীর।

নতুন গঠিত চিন পিপলস আর্মি (CPA) জানিয়েছে, সেনাবাহিনী তাদের এলাকায় অগ্রসর হলে তারা মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

CPA-র নেতা সালাই ইয়াও মার্ন বলেন, “বর্তমান মোতায়েন দেখে মনে হয় না তারা কাংগির বাইরে বড় ধরনের অভিযান চালাবে। সো ও কিয়াউখতুতে অবস্থানরত সেনাদের সংখ্যা দক্ষিণ চিনে বড় আক্রমণ চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়।”

অন্যান্য প্রতিরোধ সূত্রও একই মত দিয়েছে। তাদের মতে, কিয়াউখতুতে আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন-৩৬৮ থাকায় সেনাবাহিনী মূলত লাউংশে থেকে কিয়াউখতু পর্যন্ত সড়কের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কাংগি মোড় দখলের পর থেকে একসময় গুরুত্বপূর্ণ মাগওয়ে-চিন-রাখাইন বাণিজ্য রুট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এখন কোনো ট্রাকই এই পথে চলাচলের সাহস করছে না। এখনও সরাসরি যুদ্ধ হয়নি, কিন্তু যদি সেনাবাহিনী লাউংশে-সো-কাংগি-কিয়াউখতু করিডর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয়, তাহলে চিন ও রাখাইনে পণ্য সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। ভ্রমণ সতর্কতার কারণে কেউই এখন এই পথে চলাচল করতে সাহস করছে না।”

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed