ভয়াবহ খাদ্য সংকটে জর্জরিত সুদান, বাস্তুচ্যুত কোটি মানুষ

ভয়াবহ খাদ্য সংকটে জর্জরিত সুদান, বাস্তুচ্যুত কোটি মানুষ

ভয়াবহ খাদ্য সংকটে জর্জরিত সুদান, বাস্তুচ্যুত কোটি মানুষ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

সুদানের প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ মানুষ বর্তমানে তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি। বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থার প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের অন্যতম চরম ক্ষুধা সংকট হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। দেশটিতে চলা গৃহযুদ্ধ কেবল কয়েক লাখ মানুষের প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং কৃষি ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে।

জাতিসংঘ সমর্থিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ (আইপিসি)-এর হিসাব অনুযায়ী, গত শরতের তুলনায় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সামান্য কমলেও উত্তর দারফুর, দক্ষিণ দারফুর এবং দক্ষিণ কর্ডোফান রাজ্যের ১৪টি এলাকা এখনও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকার অন্তত ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ ‘বিপর্যয়কর’ ক্ষুধার শিকার। দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে আল-ফাশির ও কাদুকলি অন্যতম। গত বছর র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর অবরোধের কারণে সেখানে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেয়। তবে গত অক্টোবরে আরএসএফ আল-ফাশির দখল করে শহরটি প্রায় জনশূন্য করে ফেলে, অন্যদিকে সেনাবাহিনী কাদুকলির অবরোধ ভেঙে দিতে সক্ষম হয়।

বর্তমানে সুদানে সরাসরি স্থল যুদ্ধের বদলে ড্রোন হামলার তীব্রতা বেড়েছে। কর্ডোফান ও ব্লু নাইল রাজ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এসব ড্রোন বাজার, হাসপাতাল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানছে। জাতিসংঘ সমর্থিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ (আইপিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এল ওবেয়েদসহ প্রধান সরবরাহ রুটে চলমান সংঘর্ষ এবং পুনরায় অবরোধের সম্ভাবনা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, প্রায় ৮ লাখ ২৫ হাজার শিশু মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগতে পারে। নিরাপত্তাহীনতা, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং বাজেট ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া বর্ষা মৌসুম পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, উত্তর দারফুরের তিনা, উম বারু এবং কারনয় এলাকাগুলো বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে আল-ফাশির থেকে পালিয়ে আসা মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। আরএসএফ এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে ড্রোন ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ইরান সংকটও সুদানের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এর ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফসল পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *