অনলাইন প্রতারণা দমনে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর আইন প্রস্তাব মিয়ানমার সরকারের
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের নতুন সামরিক-সমর্থিত ছদ্ম বেসামরিক সরকার বুধবার অনলাইন প্রতারণা চক্র পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া আইন প্রকাশ করেছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শুরু করা সরকারের বহুল প্রচারিত ‘অ্যান্টি-স্ক্যাম’ অভিযানের অংশ হিসেবে এই বিল আনা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ মূলত দেখানোর জন্যই নেওয়া হয়েছে। এর আগে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং অনলাইন প্রতারণা দমনকে “জাতীয় দায়িত্ব” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
খসড়া আইনে এক বছর কারাদণ্ড ও জরিমানা থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যারা সহিংসতা, নির্যাতন বা অবৈধভাবে আটকে রেখে মানুষকে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করবে, তাদের জন্য ন্যূনতম ১০ বছর থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নিহত হলে অপরাধীর জন্য মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, অনলাইন প্রতারণা দমন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির চেয়ারম্যান থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সহ-সভাপতি থাকবেন পররাষ্ট্র ও অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা। এছাড়া সদস্য হিসেবে থাকবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, টেলিযোগাযোগ খাতের কর্মকর্তারা, সামরিক কমান্ডার এবং পুলিশ প্রধানরা।
এই কমিটি মূলত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গঠিত টেলিকম জালিয়াতি ও অনলাইন জুয়া দমন বিষয়ক কেন্দ্রীয় তদারকি কমিটির পুনর্গঠন। ওই কমিটির চেয়ারম্যান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুন তুন নাউং পরে বরখাস্ত হন, যখন জানা যায় তিনি প্রতারণা চক্র থেকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ নিয়েছিলেন।
নতুন আইনের অধীনে ব্যাংক, টেলিকম অপারেটর এবং ইন্টারনেট সেবাদাতাদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে, যাতে সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট ও লেনদেন শনাক্ত করা যায়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ইন্টারপোল, আসিয়ানাপোল এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধীদের প্রত্যর্পণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আগামী মাসে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হলে এই বিল উত্থাপন করা হবে।
মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্য এবং কারেন রাজ্যের মিয়াওয়াদ্দি এলাকায় চীনা পরিচালিত সাইবার প্রতারণা চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তারা বিশাল ও সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে হাজার হাজার শ্রমিক নিয়োগ করে এসব কার্যক্রম চালায়, যাদের মধ্যে অনেককে জোরপূর্বক নিয়োগ করা হলেও অনেকে স্বেচ্ছায় কাজ করে।
এই চক্রগুলোর কার্যক্রম শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়; ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়ের মতো বড় শহরেও তাদের অর্থপাচার ও ভুয়া কোম্পানির নেটওয়ার্ক বিস্তৃত।
বছরের পর বছর এসব বহুমূল্য প্রতারণা শিল্প থেকে বিপুল অর্থ ঘুষ হিসেবে পাওয়ায় মিন অং হ্লাইংয়ের সরকার বিষয়টি উপেক্ষা করে আসছিল। তবে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক চাপ এবং সীমান্ত এলাকায় ‘অপারেশন ১০২৭’-এর পর গত বছর থেকে সরকার কিছুটা সহযোগিতা শুরু করে।
গত বছরের শেষ দিকে মিয়াওয়াদ্দির শ্বে কোক্কো ও কেকে পার্ক এলাকায় জোরালো অভিযান চালানো হয়, এমনকি কিছু স্থাপনায় বোমা হামলাও চালানো হয়। তবে পরে অনেক প্রতারণা কার্যক্রম আবার ফিরে এসেছে বা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় এফবিআই বর্তমানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব প্রতারণা নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। ‘পিগ বুচারিং’ বা রোমান্স স্ক্যামের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসব চক্রের বিরুদ্ধে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দুই চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে শুন্ডা নামের একটি বৃহৎ প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগে মামলা করেছে। একই সঙ্গে কিয়াউক খেত এলাকার তাই চ্যাং প্রতারণা কেন্দ্র থেকে অর্থ উদ্ধারে সহায়তাকারীদের জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।