খাগড়াছড়িতে ৫৪ নার্সের একযোগে বদলিতে স্বাস্থ্যসেবায় সংকটের আশঙ্কা

খাগড়াছড়িতে ৫৪ নার্সের একযোগে বদলিতে স্বাস্থ্যসেবায় সংকটের আশঙ্কা

খাগড়াছড়িতে ৫৪ নার্সের একযোগে বদলিতে স্বাস্থ্যসেবায় সংকটের আশঙ্কা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে যখন শিশু রোগীর চাপে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে এবং জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে, ঠিক সেই সময় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি-তে একযোগে ৫৪ জন নার্সের বদলিকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এতে আগে থেকেই জনবল সংকটে থাকা জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৫৪ জন নার্সকে প্রথমবারের মতো পদায়ন করা হয়। কিন্তু যোগদানের মাত্র সাত মাসের মাথায়, চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর তাদের একযোগে বদলির আদেশ জারি করে। নির্দেশ অনুযায়ী, ২৬ এপ্রিলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়।

তবে এই বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। পার্বত্য অঞ্চলে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের বদলির ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হয়ে সিভিল সার্জনের সুপারিশ এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও, অভিযোগ রয়েছে—এসব নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। অনেক নার্স সরাসরি অনলাইনে আবেদন করে বদলি নিয়েছেন এবং কেউ কেউ ছাড়পত্র ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন, যা সরকারি বিধিমালার লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষ। জেলার অনুমোদিত ৩৪১টি নার্স পদের বিপরীতে আগে থেকেই ৬৯টি পদ শূন্য ছিল। নতুন করে ৫৪ জন নার্স চলে গেলে মোট শূন্যপদ দাঁড়াবে ১২৩-এ। শুধু খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালেই ১৩৫টি পদের বিপরীতে ২০টি পদ শূন্য হয়ে পড়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব থাকায় প্রসূতি মা, শিশু ও জরুরি রোগীদের চিকিৎসা অনেকাংশেই নার্সদের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে হামের প্রকোপ বাড়ায় শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে হাসপাতালের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। একইসঙ্গে টিকাদান কর্মসূচিতেও নার্সদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ সংকট আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, “নার্সসহ বেশিরভাগ সেক্টরেই জনবল সংকট রয়েছে। নতুন করে এতজনের বদলি হলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা জানান, “আগে থেকেই ৬৯টি পদ শূন্য ছিল। এখন আরও ৫৪ জন চলে গেলে মোট শূন্যপদ দাঁড়াবে ১২৩-এ। সীমিত জনবল দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”

এদিকে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “এতগুলো পদ খালি রেখে একসঙ্গে এতজন নার্সের বদলি স্বাস্থ্যসেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের সময়ে এমন সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক প্রশ্নই তুলছে না, বরং পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিরাপত্তাকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *