খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পাচ্ছে ১২৩৬ জন চক্ষুরোগী
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগে নতুন করে পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পাচ্ছেন পাহাড়ের ১২৩৬ জন চক্ষুরোগী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ওষুধ, চশমা এবং ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডারের দিক-নির্দেশনায় খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন দীঘিনালা ও মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে এ চিকিৎসা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের রোটারি ক্লাব ও লায়ন্স ক্লাবের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল উন্নত চিকিৎসা ও অপারেশনের দায়িত্ব পালন করছে।
গত ২১ এপ্রিল দীঘিনালা জোনের আয়োজনে দীঘিনালা মডেল গার্লস স্কুল মাঠে একটি বৃহৎ চক্ষু মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মোট ৯৩৭ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৭৬২ জন ছিলেন বিভিন্ন ধরনের চক্ষুরোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৬৭ জন রোগীকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়।

এছাড়া যেসব রোগীর চোখে ছানি ধরা পড়ে এবং অপারেশন প্রয়োজন হয়, তাদের মধ্য থেকে ৮৩ জনকে বাছাই করা হয়। পরে ১৬ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত দীঘিনালা জোনের তত্ত্বাবধানে তাদের চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে সফলভাবে ছানি অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।
অন্যদিকে, মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে গত ৭ মে মহালছড়ি শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ে আরেকটি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালিত হয়। সেখানে ৪০১ জন চক্ষুরোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা শেষে ১০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়।
এছাড়া উন্নত চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের জন্য আরও ১৭৪ জন রোগীকে নির্বাচন করা হয়েছে। আগামী ৬ জুন তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে অপারেশন ও ফলোআপ চিকিৎসা করানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপকারভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে উন্নত চিকিৎসাসেবা খুবই সীমিত। অর্থনৈতিক সংকট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অধিকাংশ মানুষ শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন না। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা বলেন, খাগড়াছড়ি শহর ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে চোখের চিকিৎসার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। দুর্গম এলাকার মানুষ সহজে শহরে এসে চিকিৎসা নিতে পারে না। সেনাবাহিনী যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অবশ্যই ইতিবাচক এবং মানবিক।
খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, নিরাপত্তা ও দুর্গমতার কারণে পাহাড়ের অনেক এলাকায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো কঠিন। সেখানে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে পাশে থাকার চেষ্টা করবো।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের বহু দুর্গম এলাকায় এখনো বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পৌঁছেনি। ফলে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।