রাশিয়ার সহায়তায় সাইবার সিটি পুনরুজ্জীবনে নতুন উদ্যোগ মিয়ানমার জান্তার

রাশিয়ার সহায়তায় সাইবার সিটি পুনরুজ্জীবনে নতুন উদ্যোগ মিয়ানমার জান্তার

রাশিয়ার সহায়তায় সাইবার সিটি পুনরুজ্জীবনে নতুন উদ্যোগ মিয়ানমার জান্তার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকার দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে থাকা ‘ইয়াদানাবন সাইবার সিটি’ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে এবার রাশিয়ার সহায়তা চাইছে। অভ্যুত্থানের নেতা থেকে প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া মিন অং হ্লাইং তার বহুল আলোচিত প্রযুক্তিভিত্তিক এই প্রকল্পকে পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

মিয়ানমারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মিয়ো থেইন কিয়াও ১৮ থেকে ২২ মে পর্যন্ত রাশিয়ার নিজনি নভগোরদে অনুষ্ঠিত “ডিজিটালাইজেশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল রাশিয়া” ফোরামের ১১তম আসরে অংশ নেন। সফরকালে তিনি শহরটি ও নেইমার্ক বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন, যেটিকে মস্কো তাদের নিজস্ব “কোয়ান্টাম ভ্যালি” প্রযুক্তি হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।

রুশ প্রকল্পটির সঙ্গে ইয়াদানাবন সাইবার সিটির মিল তুলে ধরে মিয়ানমারের মন্ত্রী মানবসম্পদ উন্নয়নে রাশিয়ার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কামনা করেন, যাতে মিয়ানমারের প্রযুক্তি নগরী গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

বৃহস্পতিবার তিনি রুশ অবকাঠামো সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রা গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মিয়ানমারে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার তৈরির লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে মস্কো টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ইনফরমেটিকস (MTUCI) এবং নেপিদোর স্টেট পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি (NSPU)-এর মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত গবেষণায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া রাশিয়ার আইটি নিরাপত্তা সফটওয়্যার ও সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘সিকিউরিটি কোড’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।

মন্ত্রী রাশিয়ায় যাওয়ার দুই দিন আগে মিন অং হ্লাইং নিজে ইয়াদানাবন সাইবার সিটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ডিজিটাল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি প্রকল্পে যুক্ত কোম্পানিগুলোকে এসব খাত সহায়ক সরঞ্জাম উৎপাদনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

মিয়ো থেইন কিয়াওয়ের রাশিয়া সফরের সময়ই নির্মাণমন্ত্রী মিয়ো থান্তের নেতৃত্বে ইয়াদানাবন সাইবার সিটি প্রকল্প তদারকি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রকল্প সফল করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বহু বছর ধরেই অস্ত্র ক্রয়ে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সহযোগিতা রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, কূটনীতি, বিনিয়োগ, পারমাণবিক জ্বালানি, তেল-গ্যাস ও প্রযুক্তিখাত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

ইয়াদানাবন নিউ সিটি প্রকল্প, যার কেন্দ্রবিন্দু এই সাইবার সিটি, প্রথম চালু হয় ২০০৭ সালে সাবেক সামরিক শাসক থান শ্বের আমলে। তবে শুরুতেই প্রকল্পটি নানা জটিলতায় পড়ে। পরবর্তীতে বেসামরিক সরকারের সময় এটিকে “নিউ মান্দালয় রিসোর্ট সিটি” নামে পুনঃব্র্যান্ডিং করা হয়। পরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রকল্পটি আরও পিছিয়ে যায়।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিন অং হ্লাইং আবারও সাইবার সিটি পরিকল্পনা পুনরুজ্জীবিত করেন এবং আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব দেন তার ছেলে অং পায়ে সোনকে। ১৬ মে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় মিন অং হ্লাইং সড়ক, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, নতুন নগরী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন মিন অং হ্লাইং। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সৌরশক্তি খাতের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন তার ছেলে অং পায়ে সোন।

এদিকে, প্রকল্পকে ঘিরে পিয়িন উ লুইন এলাকায় জমির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই রিয়েল এস্টেট বুম থেকে বিপুল আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সামরিক শাসনের মধ্যে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে নতুন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এসব উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *