মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু, বিদ্রোহী তৎপরতা দমনে জোর দিচ্ছে ভারত
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অরুণাচল প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করেছে। বিদ্রোহী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং তিরাপ, চাংলাং ও লংডিং (টিসিএল) জেলার নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টিসিএল অঞ্চলটি মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহী তৎপরতার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অভিযোগ, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে অবস্থান করে ক্যাম্প পরিচালনা করে থাকে এবং সেখান থেকে বনাঞ্চলঘেরা রুট ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশ করে বিভিন্ন তৎপরতা চালায়।
ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যকার সীমান্তের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার। এই সীমান্ত অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, মণিপুর ও নাগাল্যান্ড রাজ্যের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে অরুণাচল প্রদেশে সবচেয়ে দীর্ঘ ৫২০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এরপর মিজোরামে ৫১০ কিলোমিটার, মণিপুরে ৩৯৮ কিলোমিটার এবং নাগাল্যান্ডে ২১৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, “নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে পূর্ব অরুণাচল প্রদেশ অত্যন্ত স্পর্শকাতর, কারণ মিয়ানমারের সঙ্গে সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত এ রাজ্যেই। টিসিএল অঞ্চলে অতীত থেকেই বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রায়ই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাঁদার দাবির মুখোমুখি হয়েছেন।”
সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ পরিচালনা করছে ভারতের সীমান্ত সড়ক সংস্থা (বিআরও)। প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে।
একজন কর্মকর্তা জানান, “চাংলাং জেলার পাংসাউ পাস এলাকায় গত বছরের নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে। যদিও ওই এলাকায় সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।”
কর্মকর্তাদের মতে, ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ৩১ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে এবং কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এবং তাদের সরবরাহ ও যোগাযোগ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “টিসিএল অঞ্চলে সক্রিয় বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এই বেড়া নির্মাণ প্রকল্পে অসন্তুষ্ট। কারণ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে তাদের চলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে যাবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি এলাকায় তাদের চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করাও অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।”
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্রোহপ্রবণ পূর্ব অরুণাচল প্রদেশে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।