পুশইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে নতুন করে বিজিবি মোতায়েন

পুশইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে নতুন করে বিজিবি মোতায়েন

পুশইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে নতুন করে বিজিবি মোতায়েন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পথে যাতে কোনোভাবে ভারত থেকে পুশইনের ঘটনা না ঘটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুন) সকাল বেনাপোল সীমান্তের কয়েকটি এলাকা ঘুরে বিজিবির জোরদার টহল চোখে পড়ে। সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় লোকজনও বিজিবিকে সহযোগিতা করতে দেখা যায়।

এর আগে গত ৩১ মে রাতে বেনাপোল রুটে বিএসএফ সীমান্তের লাইট নিভিয়ে শতাধিকের বেশি নারী,শিশুকে ধরে বাংলাদেশি দাবি করে জোর পূর্বক পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির কঠোর তৎপরতায় পুশইনের ঘটনা সফল হয়নি।

যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির বেনাপোল চেকপোষ্ট আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মিজান হোসেন জানান, তাদের কাছে খবর রয়েছে পুশইন করতে ওপারে বিএসএফের হোল্ডিং সেন্টার গুলোতে মানুষ জড়ো করা রয়েছে। পুশইন রোধে নতুন নির্দেশনায় আগের চেয়ে সীমান্তে দেড় গুণ বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সাদাপোশাকে বিজিবি সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছেন। তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন।

জানাযায়, ভারতের পাঁচ রাজ্যের সঙ্গে দেশের ২৬ জেলা রয়েছে। এসব সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির সদর দফতর সূত্র জানায়, ২৬ জেলার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে সেসব স্থানে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। জেলাগুলো হলো যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শেরপুর।

সীমান্ত সূত্র জানায়, পুশইন করার জন্য সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় শিশু, নারী ও পুরুষ জড়ো করছে বিএসএফ। বিএসএফ তাদের পুশইন করতে ব্যর্থ হয়ে আবার কাউকে কাউকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে অধিকাংশ ব্যক্তিকে ভারতে ঢুকতে দিচ্ছে না। তারা খোলা আকাশে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

জানা যায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার সীমান্তের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত আছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে। বাকি সীমান্ত রয়েছে ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম ও আসাম রাজ্যে। ভারতের কেন্দ্রীয় শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএসএফ কোন নিয়ম নীতি না মেনে ভারতে জন্মগ্রহণ ও দির্ঘ বছর ধরে বসবাসরত অনেকই বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে পুশইনে বেশি তৎপর হতে দেখা গেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নিয়েই তিনি ঘোষণা দেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ও ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ ধরেইে বাংলাদেশে ঢোকানো হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *