আড়াই ঘণ্টা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে বাঁশের মাচায় প্রসূতিকে নেয়া হল হাসপাতালে, জন্ম নিল কন্যাশিশু

আড়াই ঘণ্টা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে বাঁশের মাচায় প্রসূতিকে নেয়া হল হাসপাতালে, জন্ম নিল কন্যাশিশু

আড়াই ঘণ্টা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে বাঁশের মাচায় প্রসূতিকে নেয়া হল হাসপাতালে, জন্ম নিল কন্যাশিশু
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সড়ক ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট আবারও সামনে এসেছে। আড়াই ঘণ্টার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে বাঁশের মাচায় বেঁধে প্রসববেদনায় কাতর এক গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন গ্রামবাসীরা। পরে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন ওই নারী।

শনিবার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমন মানবিক ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি ধারণ করেন স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুমন জ্যোতি চাকমা। দুই মিনিট তিন সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রায় ১০ জন গ্রামবাসী বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী মাচায় শুইয়ে এক প্রসূতিকে দুর্গম পাহাড়ি ঢাল ও আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন।

ভিডিওতে সুমন জ্যোতি চাকমাকে বলতে শোনা যায়, “আমরা অত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলে বাস করি। আজ একজন ডেলিভারি রোগীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছি। অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, এখানে রাস্তাই নেই। বাঁশের দোলায় করেই রোগীকে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রসূতি নারীর নাম জেসিকা চাকমা (১৯)। তিনি ভরতপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাসিন্দা সুমন চাকমার স্ত্রী। এটি ছিল দম্পতির প্রথম সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে রাঙামাটির বরকল উপজেলার আইমাছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভরতপাড়া এলাকা থেকে জেসিকা চাকমাকে হাসপাতালে নেওয়ার যাত্রা শুরু হয়। গ্রামের দুর্গম অবস্থানের কারণে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় গ্রামবাসীরা বাঁশের মাচা তৈরি করে তাকে বহন করেন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে তাকে জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।

আড়াই ঘণ্টা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে বাঁশের মাচায় প্রসূতিকে নেয়া হল হাসপাতালে, জন্ম নিল কন্যাশিশু

হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই তিনি স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

সুমন জ্যোতি চাকমা জানান, সন্তান জন্মের পর তিনি আবার গ্রামে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের গ্রামের আশপাশে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের এভাবেই গ্রামের লোকজন একসঙ্গে বাঁশের মাচায় করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। আমাদের এলাকায় একটি সড়ক ও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুবই প্রয়োজন।”

জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অন্যান্য চাকমা বলেন, “আজ সকালে বরকলের আইমাছড়া ইউনিয়নের ভরতপাড়া এলাকা থেকে এক প্রসূতিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই তার স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জুরাছড়ি সদর ও বরকল উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। অনেক স্থানে এখনো কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই। ফলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে রোগীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে আসতে হয়। এসব এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত সড়ক যোগাযোগ, অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রসূতি নারী, শিশু, বয়স্ক ও জরুরি রোগীদের চিকিৎসা নিতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ভরতপাড়ার এই ঘটনা আবারও পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *