রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যাচাই শেষে ১২৩ পরিবারের লাইন চালুর সিদ্ধান্ত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যাচাই শেষে ১২৩ পরিবারের লাইন চালুর সিদ্ধান্ত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যাচাই শেষে ১২৩ পরিবারের লাইন চালুর সিদ্ধান্ত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান এবং ব্যাটারিচালিত টমটম চার্জিং কার্যক্রমের অভিযোগে ১২৩টি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে স্থানীয়দের বিক্ষোভের সৃষ্টি হলেও পরে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ গ্রাহকদের সংযোগ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উখিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কাইজার নুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ ইস্ট এলাকায় স্থানীয় কিছু পরিবার ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহ করছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি কয়েকটি গ্যারেজে ব্যাটারিচালিত টমটম চার্জ দেওয়ার কার্যক্রমও চলছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যাম্প-১ ইস্টের ইনচার্জ (সিআইসি), বন বিভাগ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।”

ডিজিএম কাইজার নুর আরও বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও ব্যাটারিচালিত টমটম চার্জিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ১২৩টি পরিবারের সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে কোনো ধরনের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৈধ গ্রাহকদের সংযোগ যাচাই-বাছাই করে মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যাচাই শেষে ১২৩ পরিবারের লাইন চালুর সিদ্ধান্ত

এই কর্মকর্তা বলেন, “তবে অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত টমটম চার্জ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত পাঁচটি গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মঙ্গলবার সকাল থেকে কুতুপালং ১নং ইস্ট/ওয়েস্ট ক্যাম্পের প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান।

বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকটি এনজিও সংস্থার গাড়ি ক্যাম্পে প্রবেশের সময় আটকে দেন তারা।

কুতুপালং এলাকার বাসিন্দা সরওয়ার হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধ করে আসছি। কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ভোগান্তিতে পড়েছি।”

লায়লা বেগম বলেন, “হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রাতভর অন্ধকারে থাকতে হয়েছে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, “অবৈধ সংযোগ বা বিদ্যুতের অপব্যবহারের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে বৈধ গ্রাহকদের একসঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।”

জানা গেছে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারাও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *