পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে খাগড়াছড়িতে ২০ লাখ বৃক্ষরোপণ করবে সেনাবাহিনী

পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে খাগড়াছড়িতে ২০ লাখ বৃক্ষরোপণ করবে সেনাবাহিনী

পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে খাগড়াছড়িতে ২০ লাখ বৃক্ষরোপণ করবে সেনাবাহিনী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত “বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাভুক্ত এলাকায় ২০ লাখেরও বেশি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার সকালে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে খাগড়াছড়ি সদর জোনের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে. এম. ওবায়দুল হক।

May be an image of one or more people and text

পরে তাঁর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আমিনুর রহমান, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর কাজী মোস্তফা আরেফিন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা এবং খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদ হোসেন।

পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে খাগড়াছড়িতে ২০ লাখ বৃক্ষরোপণ করবে সেনাবাহিনী

এছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে. এম. ওবায়দুল হক বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বরং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে গাছকে বড় করে তোলা এবং টিকিয়ে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার অন্যতম কারণ বনাঞ্চল ধ্বংস ও সবুজায়নের ঘাটতি। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

No photo description available.

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওবায়দুল হক তাঁর বক্তব্যে পরিবেশ দূষণের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পাহাড়ি অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য একটি গুরুতর পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। অব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্লাস্টিক মাটি, নদী-নালা, ছড়া এবং জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করছে। ফলে পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ, পৃথকীকরণ এবং পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

No photo description available.

কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্যে কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গৃহস্থালি ও জৈব বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার অন্যতম কার্যকর উপায় হচ্ছে কম্পোস্ট সার উৎপাদন। এর মাধ্যমে যেমন পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব, তেমনি কৃষিজমির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসম্মত কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরও বলেন, বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং কম্পোস্ট সার ব্যবহারের মতো কার্যক্রমগুলোকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন অনেক সহজ হবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে প্রতীকী বৃক্ষরোপণ করেন। পাশাপাশি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে খাগড়াছড়িতে ২০ লাখ বৃক্ষরোপণ করবে সেনাবাহিনী

পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন। তাদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, তেমনি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কম্পোস্ট সার ব্যবহারের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। খাগড়াছড়িতে “বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬” শুধু একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে একটি সমন্বিত জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *