ড্রোন হামলায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্তের দাবি প্রতিরোধ বাহিনীর
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের ম্যাগওয়ে অঞ্চলের মিয়াইং টাউনশিপে সেনাশাসিত সরকারের একটি এমআই-১৭ ইউটিলিটি হেলিকপ্টার আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরোধ বাহিনী। মঙ্গলবার সংঘটিত এ হামলায় একজন সার্জেন্ট নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এক কর্মকর্তা।
প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মিয়াইং শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে টুইনমা গ্রামের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে সেনাবাহিনীর মিত্র পিউ স’ হতি মিলিশিয়া বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে সরকারি সেনারা অবস্থান করছিল।
একজন প্রতিরোধ যোদ্ধা সংবাদমাধ্যমকে জানান, রুশ নির্মিত এমআই-১৭ হেলিকপ্টারটি সরঞ্জাম ও অতিরিক্ত সেনা নামিয়ে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়।
ম্যাগওয়ে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথম-ব্যক্তি দৃশ্য (FPV) প্রযুক্তিসম্পন্ন দুটি ড্রোন ব্যবহার করে হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন কর্মকর্তা জিন ইয়াও দাবি করেন, হামলায় একজন সার্জেন্ট নিহত হয়েছেন এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া হেলিকপ্টারটি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করতে বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হবে। তবে ম্যাগওয়ে পিডিএফ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি।
হামলার পর সরকারি বাহিনী পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এলাকায় বিমান হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্যরা। তাদের দাবি, চীনা নির্মিত ওয়াই-১২ (Y-12) পরিবহন বিমান এবং অন্যান্য যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়।
উল্লেখ্য, হারবিন ওয়াই-১২ একটি চীনা পরিবহন বিমান, যা কম গতিতে ও নিচু উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সামরিক বাহিনী বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার কাজে ব্যবহার করছে।
প্রতিরোধ যোদ্ধারা আরও জানান, হামলার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর ১০১ নম্বর ডিভিশন এবং প্রায় ৩০০ সদস্যের একটি যৌথ বাহিনী টুইনমা এলাকার কাছাকাছি কাম্মা অঞ্চলের দিকে পাল্টা অভিযান শুরু করে। কাম্মা এলাকা হামলার স্থান থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সামরিক অভিযানের কারণে আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে, ম্যাগওয়ে অঞ্চলের সরকারি মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, গত মাসে প্রতিরোধ বাহিনী নিকটবর্তী থায়েতকান পুলিশ স্টেশন দখল করার পর সরকারি সেনারা টুইনমা এলাকায় পিছু হটে যায়। বর্তমানে পিউ স’ হতি মিলিশিয়ার ওই ঘাঁটিতে প্রায় ৫০০ সেনা সদস্য অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।