পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তায় বিদেশি সেনা প্রত্যাহার চাইল ইরান

পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তায় বিদেশি সেনা প্রত্যাহার চাইল ইরান

পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তায় বিদেশি সেনা প্রত্যাহার চাইল ইরান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ বিদেশী সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরান। তেহরানের এই কর্মকর্তা স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব সেনা কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভারতের হরিয়ানার গুরুগ্রামে অনুষ্ঠিত একাদশ ব্রিকস জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকে বক্তব্যের সময় তিনি এ কথা বলেন। পাকনেজাদ বলেন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে ইরান সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসী যুদ্ধের সময় দেশটির তেল, গ্যাস, শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী এই হামলাগুলোকে বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এক অন্ধ যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, এসব হামলার ফলে বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে, তেল শিল্পের কর্মীদের প্রাণহানি ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

পাকনেজাদ ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং বিনিয়োগ সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বাস্তবসম্মত নীতি প্রণয়ন প্রয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে সব ধরনের জ্বালানি উৎস ও প্রযুক্তির অবদান রাখা জরুরি; কারণ ২০৫০ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে মেটানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি মূল্য-শৃঙ্খলজুড়ে সক্ষমতা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ‘ব্রিকস জ্বালানি নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব’ গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন।

ইরান-দক্ষিণ আফ্রিকা জ্বালানি সহযোগিতা

ব্রিকস বৈঠকের ফাঁকে পাকনেজাদ দক্ষিণ আফ্রিকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী কোগোসিয়েনৎশো রামোকগোপার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জ্বালানি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন। উভয় কর্মকর্তা তেহরান ও প্রিটোরিয়ার মধ্যে জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার এবং অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

ভারত সফরের সময় পাকনেজাদ ভারতের আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের সঙ্গেও আলোচনা করেন। একাদশ ব্রিকস জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকটি ২৫ ও ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিকসে ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১১টি প্রধান উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশকে একত্রিত করেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *