কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ২ জনের, নিখোঁজ ১
![]()
নিউজ ডেস্ক
কক্সবাজারে মেহমানের জন্য রান্না করার সময় পাহাড় ধসে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোজিনা আক্তার (৩২) ওই এলাকার মুজিবুর রহমানের স্ত্রী।
তিনি জানান, শনিবার রাতে বেড়াতে আসা মেহমানের জন্য খাবার রান্না করছিলেন রোজিনা। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। শব্দ শুনে অতিথিরা রান্নাঘরের দিকে ছুটে গিয়ে দেখেন, বাড়ির ওপরের পাহাড় ধসে পড়ে রান্নাঘরটি সম্পূর্ণ মাটিচাপা পড়েছে। পাহাড়ের মাটি ও বাঁশঝাড়ের নিচে চাপা পড়েন রোজিনা আক্তার। তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হয়। পরে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
তিনি আরও জানান, প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর উদ্ধারকারীরা রোজিনা আক্তারকে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, দীর্ঘসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে সজিব জলদাস নামের ১২ বছরের এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ২১ মাস বয়সী মুশফিকুর রহিম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত মুশফিকুর ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ নাসিরের ছেলে।
ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আড়াই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও নতুন গঠিত মাতামুহুরী উপজেলা।
গত ৪ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টিপাতে কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে রোহিঙ্গাসহ অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।