বন্যাকবলিত ফটিকছড়িতে ৩ শতাধিক মানুষকে সেনাবাহিনীর চিকিৎসাসেবা, ৮০ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ
![]()
নিউজ ডেস্ক
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শত শত পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আজ রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়নের অধীন লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়।
দুর্গম ও পানিবন্দি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি এনে দেয়।

মেডিক্যাল ক্যাম্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিকিৎসকদের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন নারী চিকিৎসক অংশ নেন। তারা বন্যাকবলিত এলাকার ৩০০ জনেরও বেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করেন। বন্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত থাকা অনেক মানুষ এই ক্যাম্প থেকে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পান।
একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলার খয়রাতিপাড়া, মাহানগর ও দরগা শরীফ এলাকার ৮০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ প্যাকেজে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, লবণ এবং বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়, যা দুর্গত পরিবারগুলোর জরুরি খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
ত্রাণ বিতরণের সময় সেনাসদস্যরা পানিবন্দি পরিবারগুলোর সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে অবস্থান, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।

পুরো কর্মসূচিতে লক্ষ্মীছড়ি জোন অধিনায়ক স্বশরীরে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় দ্রুত পৌঁছে চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা প্রদান তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা এই চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে দাঁড়ানো তাদের দায়িত্বের অংশ। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।