রাঙামাটিতে পানি কমতে শুরু করলেও খাদ্য সংকট তীব্র, ফারুয়ায় এখনো পৌঁছায়নি সরকারি ত্রাণ
![]()
নিউজ ডেস্ক
কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অনেক মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করলেও দুর্গম এলাকায় এখন দেখা দিয়েছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট। বিশেষ করে বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের প্রায় ১২ হাজার মানুষের কাছে এখনো সরকারি ত্রাণ পৌঁছাতে পারেনি।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে বিলাইছড়ির ফারুয়া এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেন। তবে পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি। দুর্গম এলাকার অনেক পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কাপ্তাই হ্রদে এখনো তীব্র স্রোত থাকায় নৌপথে ফারুয়া ইউনিয়নে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ইউনিয়নের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দা সরকারি ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
অন্যদিকে, গত দুই দিন বৃষ্টি না হওয়ায় বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। তবে পাহাড় ধসে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাগড়াছড়ির সঙ্গে বাঘাইছড়ির সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি ত্রাণ বিতরণের জন্য বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ চিড়া, মুড়ি, পেঁয়াজ, আলু ও সয়াবিন তেল সংগ্রহ করায় এসব পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করায় রান্নার জন্য এলপিজি গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় নতুন করে কোনো পণ্য বাজারে পৌঁছাতে পারছে না।
মারিশ্যা বাজার কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বাবু বলেন, “রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় গ্যাসবাহী যানবাহন আসতে পারেনি। আবার ত্রাণ বিতরণের জন্য বাজার থেকে চিড়া, মুড়ি, পেঁয়াজ, আলু ও সয়াবিন সংগ্রহ করায় কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।”

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বাঘাইছড়িতে এখনো দেড় হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে পানি কমে যাওয়ায় অনেকে ইতোমধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৩ হাজার ৮২০টি পরিবার অবস্থান করছে। এছাড়া ১ হাজার ৪৪টি পরিবার এখনো পানিবন্দি রয়েছে। এসব পরিবারের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নতুন করে বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শনিবার বরকল উপজেলার দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।
একই দিন রাতে রাঙামাটি শহরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এমপি বলেন, “ত্রাণ ও খাবার যতদিন প্রয়োজন, ততদিন দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে তিন মাসও দেওয়া হবে। পাহাড়ধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।