‘শান্তি আলোচনার’ আহ্বানের মধ্যেই বিমান হামলা, জান্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরাকান আর্মির

‘শান্তি আলোচনার’ আহ্বানের মধ্যেই বিমান হামলা, জান্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরাকান আর্মির

‘শান্তি আলোচনার’ আহ্বানের মধ্যেই বিমান হামলা, জান্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরাকান আর্মির
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ঘোষিত ‘শান্তি পরিকল্পনা’ এবং বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্যের অভিযোগ তুলেছে আরাকান আর্মি (এএ)। রোববার (স্থানীয় সময়) পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে পৃথক তিনটি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে এ প্রশ্ন তোলে সংগঠনটি।

এএ জানায়, রোববার দুপুরের আগে তাদের নিয়ন্ত্রিত তাউংআপ টাউনশিপের মাইই শহরে সামরিক বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান তিনটি ৩০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করে। এতে পাঁচজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন এবং একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও কয়েকজন শিশুসহ ২২ জন আহত হন। হামলায় একটি গির্জা ও অন্তত ২০টি বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একই দিন বিকেলে পাশের থানদুয়ে টাউনশিপে আরেকটি বিমান হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে এএ।

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পোন্নাগিউন টাউনশিপের একটি বৌদ্ধ বিহার লক্ষ্য করে দুটি ৩০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে দুইজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও একজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন। এএ নিয়ন্ত্রিত পোন্নাগিউন রাজ্যের রাজধানী সিত্তে থেকে সড়কপথে প্রায় ৪০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।

২০২৪ সালে রাখাইন অভিযানের পর থেকে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি এবং প্রতিবেশী চিন রাজ্যের পালেতোয়া টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

এএ বলেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এপ্রিলে মিন অং হ্লাইং জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শান্তি আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে এরপর থেকেই বিমান হামলার মাত্রা বেড়েছে।

বিবৃতিতে আরাকান আর্মি বলেছে, “১০০ দিনের মধ্যে শান্তি আলোচনার আহ্বানসহ সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে এসব হামলার কোনো মিল নেই। তাদের কর্মকাণ্ড নিজেদের কথাকেই স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে।”

সংগঠনটি আরও জানায়, রাখাইনের জনগণ, মিত্র সংগঠন ও সহযোগীদের সমর্থনে তারা সামরিক বাহিনীর অভিযান প্রতিরোধ করে যাচ্ছে।

বর্তমানে আরাকান আর্মি সিত্তে ও চীনের বৃহৎ বিনিয়োগ প্রকল্পের কেন্দ্র কিয়াউকফিউ দখলের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি আয়েয়ারওয়াডি, বাগো, মাগওয়ে ও চিন রাজ্যের দিকেও তাদের অভিযান সম্প্রসারণ করছে।

অন্যদিকে, আরাকান আর্মির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে এবং তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে নেপিদো সরকার ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন বেসামরিক মানুষ।

গত ১৭ জুন কিয়াউকতাউ শহরে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চারটি যুদ্ধবিমান থেকে ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এএর দাবি, ওই হামলায় শিশুসহ আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৯ জন আহত হন। বহু ঘরবাড়িও ধ্বংস হয়।

এরপর রাখাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গাওয়া টাউনেও আয়েয়ারওয়াডি অঞ্চলের সীমান্তে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে সামরিক বাহিনী একের পর এক বিমান হামলা চালায়, যাতে আরও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

মিয়ানমার বিমান বাহিনীর সাবেক সদস্য ও পলাতক কর্মকর্তা নে উইন অং দ্য ইরাবতীকে বলেন, “সামরিক সরকার চায় না আরাকান আর্মি তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রশাসন পরিচালনা করুক। তাই একদিকে তারা শান্তি আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে আরাকান আর্মি ও অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিমান হামলা অব্যাহত রাখবে।”

এদিকে, বেসামরিক জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) জানিয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে সামরিক বাহিনীর ১৩ হাজারের বেশি বিমান হামলায় ৬ হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু রাখাইন রাজ্যেই প্রায় ১ হাজার ১৪২টি বিমান হামলায় ৯৩০ জনের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *