জ্বালানি সংকটের মধ্যেই সেপ্টেম্বরে শতবর্ষী থানলিন শোধনাগার চালুর ঘোষণা জান্তার
![]()
জার্নাল ডেস্ক
দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে মিয়ানমারের সামরিক সরকার অভ্যন্তরীণ তেল শোধন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে। জ্বালানি মন্ত্রী কো কো লুইন জানিয়েছেন, বার্ষিক ৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতাসম্পন্ন শতবর্ষী থানলিন তেল শোধনাগারের (নং-১) প্রথম ধাপ (ফেজ-১) আগামী সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার ইয়াঙ্গুনের নং-১ থানলিন শোধনাগার পরিদর্শনে গিয়ে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং প্রকল্পটির প্রথম ধাপ সম্পন্ন হওয়াকে একটি “মাইলফলক অর্জন” বলে উল্লেখ করেন।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৯২৫ সালে নির্মিত এই শোধনাগারটি অপরিশোধিত তেলের সীমিত সরবরাহ এবং উৎপাদিত জ্বালানির নিম্নমানের কারণে ২০১৭ সালে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের আগে ক্ষমতায় থাকা বেসামরিক সরকারের আমলে, কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ক্ষমতা দখলের পর সামরিক সরকার বছরে ৫ লাখ টন পরিশোধন সক্ষমতাসম্পন্ন একটি মডুলার শোধনাগার নির্মাণ শুরু করে। প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে বার্ষিক ৩০ লাখ টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এর আগে সরকার ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রথম ধাপ চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পিছিয়ে এখন সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন দেশের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। দেশটির পেট্রোল ও ডিজেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশই আমদানিনির্ভর।
চলতি বছরের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জ্বালানি মন্ত্রী কো কো লুইন রাশিয়া সফর করেন। সেখানে তিনি মস্কোর সঙ্গে নেপিদোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতে ছাড়মূল্যে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে ক্রেমলিনের উপদেষ্টা আন্তন কোবিয়াকভের সঙ্গে বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত করতে স্বল্পসুদে ঋণের বিষয়ও উত্থাপন করেন।
মিন অং হ্লাইং দাবি করেছেন, থানলিন শোধনাগার চালু হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, জ্বালানির দাম কমবে, আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমবে। তবে সমালোচকদের মতে, মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার বাস্তবতায় এসব দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
এদিকে সামরিক সরকার চীনের সহযোগিতায় আরেকটি তেল শোধন প্রকল্পও এগিয়ে নিচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কো কো লুইন নিশ্চিত করেন, চীন-মিয়ানমার অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন থেকে মাগওয়ে অঞ্চলের থানবায়ারকান শোধনাগারে তেল সরবরাহ করা হবে। বছরে ২০ লাখ টন তেল পরিশোধন সক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পটি মিনহলা টাউনশিপে বাস্তবায়ন করছে সিনো-পাইপলাইন ইন্টারন্যাশনাল (এসপিআই)।
জ্বালানি মন্ত্রী দাবি করেছেন, থানবায়ারকান প্রকল্পটি সম্পূর্ণ চালু হলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আর্থিক চাপের মুখে থাকা সামরিক সরকার দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে জ্বালানি সংকট বারবার দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আরও তীব্র হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সামরিক সরকার যানবাহনের ইঞ্জিনের ধরন অনুযায়ী জ্বালানি বিক্রি সীমিত করেছে এবং পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি জ্বালানি সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার বিনিয়োগ আহ্বান করে নতুন শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদেশি জ্বালানির ওপর দেশের প্রায় সম্পূর্ণ নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।