পেকুয়ায় অস্ত্রের মুখে ৪০ মিনিটের ডাকাতি, লুট ১৭ ভরি স্বর্ণ ও সাড়ে ৮ লাখ টাকা

পেকুয়ায় অস্ত্রের মুখে ৪০ মিনিটের ডাকাতি, লুট ১৭ ভরি স্বর্ণ ও সাড়ে ৮ লাখ টাকা

পেকুয়ায় অস্ত্রের মুখে ৪০ মিনিটের ডাকাতি, লুট ১৭ ভরি স্বর্ণ ও সাড়ে ৮ লাখ টাকা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজারের পেকুয়ায় গভীর রাতে দুই পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে ডাকাতি করেছে একটি সংঘবদ্ধ দল। এ সময় নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা।

রোববার (২৬ জুলাই) রাত সোয়া ৩টার দিকে পেকুয়া পৌরসভার প্রস্তাবিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়া এলাকায় সৌদি প্রবাসী জমির আলম ও মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল করিমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রেজাউল করিম জানান, রাতে মোটরসাইকেল দেখতে বাইরে গেলে পাশের একটি দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলেন তিনি। রাত ৩টার দিকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস দ্রুত চলে যেতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর ৩-৪ জন অপরিচিত ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তারা অস্ত্রের মুখে তাকে ও আরও দুজনকে একটি ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলেন। পরে তাকে জিম্মি করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি বলেন, বাড়িতে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় কেউ চিৎকার করলে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়।

রেজাউল করিমের দাবি, তার কক্ষ থেকে নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং বড় ভাই সৌদি প্রবাসী জমির আলমের কক্ষ থেকে আড়াই লাখ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। পরে ডাকাতরা একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায়।

রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সোলতানা কাজল বলেন, ডাকাতরা পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে জিম্মি করে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালায়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে এ ঘটনা চললেও বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকা স্বজনরা বিষয়টি টের পাননি। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর তাদের চিৎকার শুনে নিচে নেমে আসেন।

সৌদি প্রবাসী জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার গলার চেইন ও কানের দুল খুলে নেওয়া হয়। পরে আলমারির তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় ডাকাতরা।

স্থানীয় বাসিন্দা তামিম হোছাইন বলেন, এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর আগেও পাশের একটি বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে ছয়টি গরু লুটের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি সংঘবদ্ধ ডাকাতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বাহাদুর শাহ বলেন, এ ধরনের সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *