সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের মানবিক স্পর্শে ২০ জন মানুষের চোখে ফিরল আলো
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, মানবিকতারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেই দৃষ্টান্তই আবারও স্থাপন করল সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন মহালছড়ি জোন। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে থাকা মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে তৃতীয় ধাপে পরিচালিত বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা কর্মসূচির আওতায় সফলভাবে ২০ জন রোগীর ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারা নতুন করে আলোর দেখা পেয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভোগা এসব মানুষের অনেকের পক্ষেই উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব ছিল না। অর্থাভাবে যখন দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছিল, ঠিক তখনই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় মহালছড়ি জোন। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, বরং অনেক পরিবারের জন্য নতুন আশা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে মোট ২৯ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের লায়ন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ১৯ জন বাঙালি এবং ১০ জন পাহাড়ি সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ২০ জন রোগীর সফলভাবে ছানি অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।
অবশিষ্ট ৯ জন রোগীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা শনাক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে পরবর্তীতে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শুধু রোগীদের হাসপাতালে পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি মহালছড়ি জোন। পুরো চিকিৎসা কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম রোগীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে চিকিৎসা সমন্বয়, প্রশাসনিক সহযোগিতা, যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করেছে। ফলে দুর্গম এলাকার রোগীরা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ের অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসা পাওয়া এখনো কঠিন। সেখানে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ বহু মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে এসেছে। দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আনন্দে রোগী ও তাদের স্বজনরা মহালছড়ি জোনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মহালছড়ি জোনের এই জনকল্যাণমূলক চক্ষু চিকিৎসা কর্মসূচির প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপেও ইতোমধ্যে ৮৪ জন রোগী বিনামূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। তৃতীয় ধাপের আরও ২০ জনকে যুক্ত করলে এ পর্যন্ত মোট ১০৪ জন অসহায় মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ লাভ করেছেন।

মহালছড়ি জোন কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে চিকিৎসা, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চক্ষু চিকিৎসা কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ভবিষ্যতেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে এ ধরনের জনসেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জোন কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় সেবার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণে নিবেদিত এই কার্যক্রম দুর্গম এলাকার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।