রামগড়ে মাদকবিরোধী ম্যারাথনের আগে সচেতনতামূলক বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে খাগড়াছড়ির রামগড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ম্যারাথন দৌড়-২০২৬’। তবে আয়োজনের মাত্র কয়েকদিন আগে বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা সচেতনতামূলক বিলবোর্ড দুর্বৃত্ত কর্তৃক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে নাশকতামূলক আখ্যা দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আয়োজকরা।
আগামী ৭ আগস্ট (শুক্রবার) সকালে রামগড় উপজেলার ১ নম্বর ইউনিয়নের বলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে ম্যারাথন দৌড় শুরু হবে। হাজী মো. নুরুল হক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “দৌড়ান সুস্থতার জন্য, এগিয়ে চলুন বিজয়ের পথে।”
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টায় শুরু হওয়া ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদরা বলিপাড়া থেকে খাগড়াবিল পর্যন্ত নির্ধারিত পথে দৌড়াবেন। মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং সুস্থ জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
এরই অংশ হিসেবে ম্যারাথন উপলক্ষে রামগড়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। কিন্তু আয়োজকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা এসব বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

হাজী মো. নুরুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল হক মানিক বলেন, ‘একটি সচেতনতামূলক বার্তার ওপর আঘাত করে তারা কী বার্তা দিতে চায়? যারা সমাজকে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসমুক্ত করার আহ্বান জানায়, তাদের কণ্ঠ কি এভাবে থামানো যাবে? আমরা কোনো তদন্ত ছাড়াই কাউকে দায়ী করতে চাই না। তবে এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য শুভ বার্তা বহন করে না। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
তিনি আরও বলেন, সচেতনতার বার্তা কখনো ছিঁড়ে ফেলা যায় না। বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব, কিন্তু একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্নকে থামানো সম্ভব নয়।
ম্যারাথন আয়োজনের লক্ষ্য তুলে ধরে আব্দুল হক মানিক বলেন, ‘মাদক একটি সমাজের জন্য নীরব ঘাতক। এটি শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার ও একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে। তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এই ম্যারাথনের মাধ্যমে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি তরুণদের সুস্থ, সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে চাই।’

আয়োজকরা জানান, ম্যারাথনে প্রায় ৩০০ জন দৌড়বিদ অংশ নেবেন। এ উপলক্ষে গত ১৫ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষ নিবন্ধন করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আয়োজনটি সফল হবে বলে আশা করছেন তারা।
ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন অ্যাথলেট বলেন, রামগড়ে এ ধরনের ম্যারাথনের আয়োজন এবারই প্রথম। তাঁদের মতে, ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ মানুষকে আবারও খেলাধুলামুখী করবে এবং একই সঙ্গে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
আয়োজকদের ভাষ্য, ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের আয়োজন শুধু খেলাধুলার পরিবেশই ফিরিয়ে আনবে না, বরং সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জুয়া, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও জনমত গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।